kalerkantho


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

ওয়াই-ফাই আছে, ওয়াই-ফাই নাই!

মো. জহিরুল ইসলাম   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ১০:৫১



ওয়াই-ফাই আছে, ওয়াই-ফাই নাই!

দেশ যে গতিতে তথ্য-প্রযুক্তির স্পর্শে এগিয়ে যাচ্ছে, সে হিসাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টরের দিকে আলাদা নজর দেওয়া উচিত। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়ে গেলেও এ বিষয়ে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। বর্তমানে অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ, এখানে সবার হাতে হাতে তথ্যের ভাণ্ডার থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও এর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী, যে কারণে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান থেকে দূরে থেকে যাচ্ছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন বিভাগ ছাড়াও ২৫টি আলাদা স্থানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা থাকার কথা, কিন্তু ২০১২ সাল থেকে মুখে মুখে চালু হওয়া ওয়াই-ফাই সুবিধার সুফল এখনো পেতে শুরু করেননি শিক্ষার্থীরা। আর অনেকে তো বলতেই পারবেন না এ সুবিধার কথা। যে স্থানগুলোতে এ সুবিধা থাকার কথা, তার বেশির ভাগে নেই কোনো ইন্টারনেট সংযোগের দেখা। কোথাও কোথাও থাকলেও কচ্ছপগতির কারণে বিরক্ত শিক্ষার্থীরাও। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো মাথাব্যথা! তবে আছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। সে অপেক্ষার শেষ কবে হবে জানে না কর্তৃপক্ষও।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শহীদ মিনার, ভাস্কর্য চত্বর, কাঁঠালতলা, শান্ত চত্বর, বিজ্ঞান ভবন, নতুন একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক কার্যালয়—কোথাও দেখা নেই কথিত ওয়াই-ফাই সংযোগের।

গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও বেশির ভাগ বিভাগ নিজস্ব অর্থায়নে চালাচ্ছে ওয়াই-ফাই। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা বিভাগ, মার্কেটিং, ভূগোল ও পরিবেশ, ফিন্যান্সসহ আরো বেশ কয়েকটি বিভাগ। তবে এখানেও রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতা। দুদিন পর পর পরিবর্তিত হয় ওয়াই-ফাই ব্যবহারের পাসওয়ার্ড বা গোপন নম্বর, যে কারণে এটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মিলু বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই কখনো পাইনি। তবে বিভাগেরটা পেয়েছিলাম এবং চালিয়েছিও। কিন্তু এখন গোপন নম্বর পরিবর্তন করায় আর পাই না।

ইংরেজি বিভাগের ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিভাগের ওয়াই-ফাই মাঝেমধ্যে পাই, তবে সব সময় না। এমন গতিহীন সুবিধা থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো! আমাদের পড়ালেখার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ওয়াই-ফাই সুবিধা দিলে ভালোভাবেই দেওয়া উচিত। শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার বলেন, ওয়াই-ফাইয়ের কথা একবার এক বন্ধুর কাছে শুনে ঢুকতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু লাইন পাইনি। কয়েক দিন চেষ্টা করে একবার লাইন পেয়েছিলাম, কিন্তু গতি একেবারে কম। কোনো কাজ করা যায় না। ফলে নিজ খরচেই নেট চালাতে হচ্ছে। এ জন্য প্রতি মাসেই বেশ কিছু টাকা খরচ হয়ে যায়, যা মাস শেষে গিয়ে যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্যই সমস্যা হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে নেটের ব্যবস্থা করা হলে আমাদের উপকার হয়। তবে সে ব্যবস্থা হতে হবে কার্যকর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, দেশ যে গতিতে তথ্য-প্রযুক্তির স্পর্শে এগিয়ে যাচ্ছে, সে হিসাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টরের দিকে আলাদা নজর দেওয়া উচিত। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়ে গেলেও এ বিষয়ে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। বর্তমানে অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ, এখানে সবার হাতে হাতে তথ্যের ভাণ্ডার থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড আইটি দপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই রয়েছে ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি স্পটে রয়েছে নিজস্ব ওয়াই-ফাই সুবিধা, যার গতি দুই-তিন মেগাবাইট।

আর বিভাগীয় ওয়াই-ফাইয়ে এক আইপি থেকে ব্যবহার করতে পারবে ১৫ জন। তবে বেশির ভাগ বিভাগেই তা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক ড. উজ্জল কুমার আচার্য বলেন, বর্তমানে সংযোগ ভালোই চলছে। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিডি নেটের প্রকল্পের আওতায় চলে এলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। দেড় বছর ধরে ওই প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা করলেও কোনো লক্ষণ দেখছি না বাস্তবায়নের। বর্তমান প্রক্রিয়া তেমন উন্নত নয় বলে, গতি কম হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 


মন্তব্য