kalerkantho


বন্যার্তদের পাশে ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ

নিঃস্ব লালমনিরহাটের বন্যাদুর্গতরা পেল পরিধেয় বস্ত্র

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:২০



নিঃস্ব লালমনিরহাটের বন্যাদুর্গতরা পেল পরিধেয় বস্ত্র

উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ।

মঙ্গলবার অন্যতম এই মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার আট ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে চালসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস এবং শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

বন্যাপীড়িত লোকজন এসব পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ ধরণের কাজে বসুন্ধরা গ্রুপ এগিয়ে আসায় এর চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজ মাঠে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় দৈনিক কালের কণ্ঠের পাঠক সংগঠন শুভসংঘের সহযোগিতায় গতকাল সকাল ১১ টার দিকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু। এ সময় আরোও বক্তব্য রাখেন হাতীবান্ধার ইউএনও সৈয়দ এনামুল কবির, কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়াত হায়াত খান, কালের কণ্ঠ রংপুর অফিস প্রধান স্বপন চৌধুরী ও শুভসংঘের লালমনিরহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত রানা।  

পরে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে নানা বয়সী নারী-পুরষের হাতে ত্রাণে সামগ্রী তুলে দিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এছাড়া ত্রাণ কার্যত্রমে অংশ নেন বসুন্ধরা ও ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ ও বসুন্ধরা সিমেন্ট সেক্টরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।  

এর আগে গত সোমবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণের শ্লিপ বিতরণ করেন শুভসংঘের সদস্যসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। হাতীবান্ধার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ গড্ডিমারী ও সিন্দুর্ণা এবং সিংগীমারি, সানিয়াজান, টংভাঙ্গা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ও ফকিরপাড়ার ক্ষতিগ্রস্থ এক হাজার পরিবারের মাঝে সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৫০জন নারীকে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটসহ একটি করে শাড়ি, ২৮০জন বৃদ্ধকে খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি একটি করে লুঙ্গি এবং বাকি ৩৭০জনের মাঝে প্রতিজনকে একটি করে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।

গতকাল সকাল ১০টায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়।

তবে সকাল সাড়ে আটটা থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা এবং চরাঞ্চলের নারী-পুরুষ সরবরাহকৃত শ্লিপ নিয়ে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজে মাঠের গাছতলায় ভীড় জমাতে শুরু করেন। সকাল ঠিক সাড়ে আটটায় জনা পাঁচেক নারীকে একটি ইজিবাইক থেকে নামতে দেখা যায় কলেজের প্রধান ফটকের বাইরে। কথা বলে জানায়, তারা সকলেই শ্লিপ পেয়ে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের তিস্তা ব্যারাজ এলাকা থেকে এসেছেন।

তাদেরই একজন আমেনা বেগম বলেন, ‘নদী আমাদের নিঃস্ব করেছে তাই এখন অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়। এই অবস্থায় শ্লিপ পেয়ে ত্রাণের আশায় এখানে এসেছি’। তাদের মতো অনেকেই যেমন এসেছেন দূরদুরান্ত থেকে তেমনি কেউ কেউ এসেছেন আশপাশের এলাকাগুলো থেকেও। আর শাড়ি-লুঙ্গিসহ খাদ্য সামগ্রী পেয়ে এসব মানুষের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে হয়ে পড়েন আবেগ আপ্লুত।

কলেজের দক্ষিণ প্রান্তের গাছের ছায়ায় বন্যা বিধ্বস্ত মানুষগুলোকে লাইন ধরিয়ে বসিয়ে দেন শুভসংঘ এবং স্কাউট ও রোভার সদস্যরা। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে অতিথিরা বন্যা কবলিত মানুষেল হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের উদ্বোধন করার পর পরই যেশুরু হয় মূল কর্মযজ্ঞ। কিছুটা দূরে থাকা গাড়ি থেকে এক এক করে শুভসংঘের সদস্য ও স্কাউট সদস্যদের মাধ্যমে হাতে হাতে ত্রাণ সামগ্রীগুলো পৌঁছতে থাকে ক্ষতিগ্রস্থ অভাবি মানুষগুলোর কাছে। স্বেচ্ছাসেবীদের এক হাত থেকে আরেক হাত-এভাবেই লাইনের যেখানেই যে বসে ছিলেন সেখানেই পৌঁছে যেতে থাকে ত্রাণ সামগ্রীগুলো। এরপর সেগুলো নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকা মানুষগুলো খুশিমনে পা বাড়ান বাড়ির দিকে।

হাতীবান্ধায় শ্লিপ বিতরণ থেকে শুরু করে ত্রাণ বিতরণ পর্যন্ত সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর ও সহায়তায় এগিয়ে আসেন আলিমুদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান, সাংবাদিক মিজানুর রহমান দুলাল, ব্যবসায়ী সেলিম রেজা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক স্কুল শিক্ষক রোকনুজ্জামন সোহেল, হাতীবান্ধা প্রেসক্লাব সভাপতি ইলিয়াস বসুনিয়া পবন, সাংবাদিক হাসান মাহমুদ, রবিউল হাসান ও সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি। এছাড়া হাতীবান্ধার পুরো ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করেন কালের কণ্ঠর লালমনিরহাট প্রতিনিধি হায়দার আলী বাবু।

এদিকে গতকাল সকালে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ মাঠেও ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে দেড় হাজার বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোটেক মতিয়ার রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকারপ্রমুখ। কুলাঘাটের ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজটোয়েন্টিফোরের লালমনিরহাট প্রতিনিধি রেজাউল করিম মানিক।


মন্তব্য