kalerkantho


বিসিসির জায়গা সংকটে ময়লা ফেলা বন্ধ

বরিশাল অফিস   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ২২:১২



বিসিসির জায়গা সংকটে ময়লা ফেলা বন্ধ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনের জায়গা না থাকায় বর্জ্য অপসারণ (ফেলা) বন্ধ রেখেছে পরিছন্নতা বিভাগের ট্রাকচালক ও কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর ৩০ ওয়ার্ড থেকে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ থাকায় চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে বিকল্প কোনো স্থানে ময়লা ফেলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আজ দিনভর বৈঠক করেছেন বিসিসির কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরা।

বিসিসির পরিছন্নতা বিভাগের ট্রাকচালকরা জানিয়েছেন, বিসিসির নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনের ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। পাশাপাশি স্টেশনে ট্রাক ঢুকানো সব ক'টি প্রবেশ পথ বর্জ্যের কাএণ আটকে গেছে। তাই ট্রাক ডাম্পিং স্টেশনে মধ্যে ঢুকছে না। এ অবস্থায় নগরী থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ট্রাক বোঝাই করার ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। বর্জ্যগুলো ট্রাকে রাখলের নগরবাসীর দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই তারা বর্জ্য সংগ্রহ করেনি। বর্জ্য ফেলার বিকল্প স্থান দেওয়া হলে দ্রুত নগরীর ৩০ ওয়ার্ড থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হবে বলে তারা জানান।

বিসিসি সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের শেষের দিকে নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়ার পুরানপাড়া, হোসনাবাদ, কাউনিয়া ও সাপানিয়া সংযোগ এলাকায় ছয় একর জমিতে নির্মাণ করা হয় ডাম্পিং গ্রাউন্ড বা ডাম্পিং স্টেশন।

ওই সময়ে স্টেশনের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে টিনের চালাসহ একটি চুল্লি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্টেশনটি নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে ওই চুল্লিটি বিকল হয়ে পড়ে। সেই থেকে সেটি আর মেরামত করা হয়নি। এক যুগের বেশি সময় ধরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আধুনিক পদ্ধতিতে ধ্বংস ও পরিশোধনের (রিসাইক্লিনিং) না হওয়ায় স্টেশনসহ আশপাশ এলাকায় তার স্তূপ আকারে জমা হয়ে আছে।

বিসিসির পরিছন্নতা কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা জানান, প্রতিদিন নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড থেকে একশত টনের উপরে বর্জ্য সংগ্রহ করে এ স্টেশনটিতে ফেলা হয়। কিন্তু ওই পরিমাণের বর্জ‍্য ধ্বংস করার অধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি বর্জ্য ধ্বংসের জন্য  স্টেশনটি  নির্মাণের পর থেকে রাসায়নিক পদার্থও বিসিসি সরবারাহ করেনি। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোরসি ও পেট্রোল ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হলেও কঠিন পদার্থগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেগুলো জমে স্টেশন ও এর আশপাশ এলাকায় পাহার সমন উচ্চতা হয়েছে। এ কারণে স্টেশনের অভ্যন্তরে ট্রাক চলাচলে রাস্তাগুলোও আটকে গেছে। ফলে নগরী থেকে সংগৃহীত বর্জ্যবহনকারী ট্রাকগুলো স্টেশনে প্রবেশের বিকল্প কোনো উপায় নেই। তাই ট্রাকচালকরাও নগরীর বর্জ্য ট্রাকে তুলছে না।

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্তকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, নগরীতে জায়গার সংকটের কারণে ডাম্পিং স্টেশনটি স্থানান্তরিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে পরিছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। নগরীর বর্জ্যগুলো বিকল্প হিসেবে কোনো কোনো স্থান রয়েছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। দু'একদিনের মধ্যে বিকল্প স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য ধ্বংস করতে যে পরিমাণের অর্থ প্রয়োজন সেই অর্থ বিসিসি নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য রিসাইক্লিনিং করার বিষয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য