kalerkantho


'নরঘাতকদের ফাঁসির দড়িতে দেখতে চাই'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৪:০১



'নরঘাতকদের ফাঁসির দড়িতে দেখতে চাই'

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ৭ খুন মামলায় আসামিদের নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ড বহাল থাকবে, নাকি পরিবর্তিত হবে সে সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ।  এর আগে ৭ খুনের মামলায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রধান আসামি  নূর হোসেন, র‌্যাবের তিনজন কর্মকর্তা সহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২২ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। তবে এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি দেওয়া নিম্ন আদালত বহাল রাখবে এমন প্রত্যাশা নিহত পরিবার ও স্বজনদের। তাঁরা বলছেন, তাদের প্রতাশ্যা শুধু হাইকোর্ট রায় বহাল না সঙ্গে সঙ্গে নূর হোসেন সহ সকলের দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর করা।

সাত খুনে নিহতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র ২ নজরুল ইসলাম, সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। নিহত ইব্রাহিমের ছেলে ইসমাইল হাসান রনি বলেন, বাবা আমাকে খুব আদর করত। কখনো ধমক দিত না। প্রায় সময় আমাকে বাবা গাড়ি চলাতে দিত। বলতে আমি পাশে আছি তুমি চালাও। বাবার সঙ্গে ঘুরতে যেতাম, খেলা করেছি, এক সঙ্গে খেয়েছি সব কিছুই আজ স্মৃতি।

আমি আমার বাবার খুনিদের ফাঁসির কাষ্ঠে দেখতে চাই।

ইব্রাহিমের স্ত্রী হুনফা বেগম বলেন, স্বামীকে মারার সঙ্গে সঙ্গে আমার তিন সন্তানের ভবিষ্যতকেও মেরে ফেলেছে। এত ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কি করব। কোনো কাজ করতে পারি না। বাবা টাকা দেয় সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে। ওদের বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করা। পড়ালেখা করানো। কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ। অপর স্ত্রী মাহমুদা ও হুনফা বেগম দুজনই বলেন, যারা আমাদের সংসার শেষ করেছে। আমাদের সন্তানদের এতিম করছে। তাদের যেন ফাঁসি হয়। ইব্রাহিমের মা নূর জাহান বেগম বলেন, আমার ছেলেরে যারা মারছে তাদের জন্য ফাঁসি হয়। আর কিছু চাই না।

সাত খুনে নিহত নজরুল ইসলামের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামছুন্নাহার নূপুর বলেন, মাত্র ১০ মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়। তার ২ মাস চার দিন পর একমাত্র মেয়ে রোজা জন্মগ্রহণ করে। এর মধ্যে নির্মম ভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করে। আমি তাদের ফাঁসি চাই। নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের বলেন, ছেলেকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার ছেলে সহ সাতজনকে মেরেছে তাদের যেন ফাঁসি দেখে যেতে পারি। উচ্চ আদালতেও যেন তাদের ফাঁসি বহাল থাকে। এটাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।

নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, যারা মেরেছে তাদের সঠিক বিচার দাবি করছি। এখন আমার প্রত্যাশা যে রায় হয়েছে সেটিই যেন বহাল থাকে। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন যারা হত্যার সাথে জড়িত সবারই বিচার হবে। আগে কিছুটা প্রেসার ছিল এখন সবকিছু সঠিক। নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের ভাই মিজানুর রহমান রিপন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আমরা চাই উচ্চ আদালতেও যাতে রায়টি বহাল থাকে এবং রায়টি দ্রুত কার্যকর হয়।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, লে. কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ৯ জনকে সাত থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টা ৪ মিনিট হতে ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন ওই রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দিয়েছেন আদালত।

 


মন্তব্য