kalerkantho


পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি    

২১ আগস্ট, ২০১৭ ২০:৫২



পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লার লাকসামে পাওনা টাকা চাওয়ায় আলী নওয়াব (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার  উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের নাগরাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলী নওয়াবের লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের জনতা ব্যাংকের সামনে চায়ের দোকান ছিল।

নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা জানান, ২০১৬ সালে একই এলাকার সাদ্দাম হোসেনকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চার লাখ টাকা ধার দেন আলী নওয়াব। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও সাদ্দাম টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করে। টাকা চেয়ে আলী নওয়াব ফোন দিলে সাদ্দাম তাকে গালিগালাজও করতেন। ৬-৭ মাস আগে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে নিয়ে আলী নওয়াবের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে আটক করেন নওয়াব। খবর পেয়ে সাদ্দামের বাবা শহীদ উদ্দিন আলী নওয়াবের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেন। গত শনিবার কান্দিরপাড় গ্রামের জসিম এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনের মাধ্যমে আলী নওয়াবকে সন্ধ্যা ৭টায় গ্রামের পাকা ব্রিজের কাছে আসতে বলেন। পরে আলী নওয়াব তার বড় ছেলে জেএসসি পরীক্ষার্থী ইয়াছিনকে নিয়ে পাকা ব্রিজের নিকট যান। সেখানে সাদ্দাম, খোকনসহ ৮-১০ জন লোক অপেক্ষমান ছিলেন।

এ সময় টাকা চাওয়ার অপরাধে তারা টর্চ লাইট দিয়ে আলী নওয়াবকে পিটাতে থাকেন। সঙ্গে থাকা ছেলে ইয়াছিনকেও কয়েকটি থাপ্পড় দেন তারা।

আলী নওয়াবের ছেলে শিশু ইয়াছিন বলে, "তারা আমার বাবাকে একটু দূরে নিয়ে প্রচুর মারধর করে। এ সময় সাদ্দামের হাতে থাকা টেঁটা দিয়ে বাবাকে আঘাত করতে গেলে স্থানীয় লোকজন টেঁটাটি নিয়ে যায়। মারধরের ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় তারা। লজ্জায় বাড়ির লোকজনকে ঘটনাটি জানাননি আমার বাবা। পরদিন রবিবার দুপুরে বাবার শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হলে আমার মা বাবাকে স্থানীয় ডাক্তারকে দেখায়। ওই ডাক্তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমার বাবার মারা যান। "

এদিকে, খবর পেয়ে রবিবার রাত ১টার দিকে লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফ উদ্দিন, এসআই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।

আজ সোমবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী হাসিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, "আমার স্বামীর কোনো সময় হার্টের অসুখ ছিল না। তারা আমার স্বামীকে বেদম মারধর করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। " পুলিশ লাশ নিয়ে আসার পর থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি মহল জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক বলেন, "আলী নওয়াব সাদ্দামকে টাকা ধার দেওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে এ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। " লাকসাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, "লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। " 


মন্তব্য