kalerkantho


দুই স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে, মামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:৫৬



দুই স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে, মামলা

পাবনার সুজানগরে দুই স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ইন্টারনেটে ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রবিবার বিকেলে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী মামলা গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

স্থানীয় থানা মামলা না নেয়ায় ওই দুই ছাত্রী আদালতে মামলা করেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী রাজিউল্লাহ সরদার রঞ্জু বলেন, সুজানগর থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় মামলাটি আদালতে দায়ের করা হয়। আদালত মামলা গ্রহণ করায় ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সুজানগরের পৌর এলাকার চরভবানীপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান ওই দুই স্কুলছাত্রী। তারা স্থানীয় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।

গত ১ আগস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটে হযরত আলী, আল আমিন, শাহিন, মিঠুন, পাংকু ও সোহেল রানা অস্ত্রের মুখে বাঁশবাগানে নিয়ে তাদের ধর্ষণ করে।

এ সময় তারা মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি দেয়।

দুই ছাত্রী প্রথমে ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। এর কিছুদিন পর তারা ভিডিওটি দেখিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে আবারও দৈহিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়।

তারা তা প্রত্যাখান করলে অভিযুক্তরা ওই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে।

বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দুই ছাত্রীর অভিভাবক সুজানগর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি।

পরে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাবের কাছে ওই দুই ছাত্রীর বাবা-মা বিচার দাবি করলে তিনি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন দুই ছাত্রীর পরিবার। এক পর্যায়ে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের শিকার ওই দুই ছাত্রী জানায়, এ ঘটনার পর থেকে ধর্ষকদের হুমকির মুখে বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। কাউকে মুখ দেখাতে পারছে না।

মামলা না নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সুজানগর থানার ওসি ওবায়দুল হক বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ কেউ আমাদের কাছে নিয়ে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য