kalerkantho


দুদকের দুর্নীতির মামলা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ পাঁচজনের জামিন

রংপুর অফিস   

২০ আগস্ট, ২০১৭ ২০:৪২



বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ পাঁচজনের জামিন

প্রতীকী ছবি

অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আব্দুল জলিল মিয়া ও উপ-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মন্ডলসহ পাঁচজনকে জামিন দিয়েছে আদালত। আজ রবিবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার এ আদেশ দেন।

 

এই মামলার চার্জসিটভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে এতদিন কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা জানতে চেয়ে আদেশ জারি করে বর্তমান ভিসিকে নোটিশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তি তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর। গত ২০ জুলাই ভিসি আব্দুল জলিল মিয়া ও উপ-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মন্ডল আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।  

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রংপুর কোতয়ালি থানায় দুদকের পক্ষ থেকে ভিসি আব্দুল জলিল মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন তৎকালিন উপ-পরিচালক আব্দুল করিম। মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে চার্জসিট দাখিল করা হয়।  

দুদকের আদালত পরিদর্শক মো. বুল মিয়া জানান, ভিসি ও উপ-রেজিস্ট্রার হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ায় এই আদালত তাদের জামিন দিয়েছে। অপর তিন আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এটিএম গোলাম ফিরোজ, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার আশরাফুল আলম এবং সহকারী রেজিস্ট্রার মোর্শেদ-উল-আলম রনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জামানতে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমান ভিসি’র বিরুদ্ধে আদেশজারী করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।  

দুদকের উপ পরিচালক মোজাহার আলী সরদার জানান, চার্জসিটে বলা হয়েছে, সাবেক উপচার্য আব্দুল জলিল মিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও ইউজিসি’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিধি বহির্ভূতভাবে নিজ মেয়ে, ভাই ও ভাতিজাসহ অন্যান্যদের চাকরি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া স্বজনপ্রীতি করে নিয়োগ দিয়ে সরকারেরর ৯০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি করেছে।  

এসব অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় গত ১৯ মার্চ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়াসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে সাক্ষী করা হয়েছে ২১ জনকে। গত ২০ জুলাই আদালত চার্জসিট গ্রহণ করে আসামিদের জামিনের শুনানী করেন।  

আসামি আব্দুল জলিল মিয়া ও উপ-রেজিস্ট্রার শাহজাহান মন্ডল আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই মামলায় অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়া বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে কর্মরত।

এদিকে গত জুলাই মাসে সিন্ডিকেটের সভায় দুদকের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পদোন্নতি দেন বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে কেন তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আদালতের পক্ষ থেকে ভিসিকে নোটিশ জারী করা হয়েছে।


মন্তব্য