kalerkantho


নোয়াখালীতে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে আসামী ছিনতাইয়ের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী    

২০ আগস্ট, ২০১৭ ১৮:৪৯



নোয়াখালীতে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে আসামী ছিনতাইয়ের চেষ্টা

ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর এলাকায় মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩ আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। আজ রবিবার ভোররাতে বসুরহাট পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ ফজলে রাব্বি জানান, উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী মিজান প্রকাশ (৩৮) তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিশেষ আনসার সদস্যরা বসুরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওমর ফারুকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবাসহ মিজান ওরফে জামাই মিজানকে আটক করে।  

তাকে আটক করে হ্যান্ডকাপ পরানোর সময় মিজান পুলিশ সদস্যদের সাথে পালিয়ে যাবার জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে এএসআই মোশারফ হোসেন ও বিশেষ আনসার আলাউদ্দিনের হাতে কামড় দিয়ে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় মিজানের স্ত্রী রূপা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।  

নিক্ষিপ্ত মরিচের গুঁড়া চোখে মুখে পড়ে বিশেষ আনসার সদস্য আলা উদ্দিন, আবু সাঈদ ও শহীদুল ইসলাম আহত হয়। তারপরও পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মরিচে গুড়া নিক্ষেপে আহত আনসার সদস্যদেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহাবুব বাদী হয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

আটককৃত মিজান উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। সে তার শ্বশুর বাড়িতে থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। শ্বশুর বাড়িতে থাকে বিধায় কোম্পানীগঞ্জে সে জামাই মিজান হিসেবে পরিচিত। তাকে ধরার জন্য পুলিশ দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা করছিলো

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ ফজলে রাব্বি আরো জানান, মিজান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া ৬টি মাদক মামলার এজাহারভূক্ত আসামী এবং তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া যারা মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করেছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে জিডি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


মন্তব্য