kalerkantho


কোটালীপাড়ায় ছাত্রলীগের হাতে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি    

২০ আগস্ট, ২০১৭ ১৭:২৭



কোটালীপাড়ায় ছাত্রলীগের হাতে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সর্বানন্দ বালাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন চলছে।  

জানাগেছে, গত বৃহস্পতিবার ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস তরিকুল ইসলাম সরদারসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা অধ্যক্ষ সর্বানন্দ বালাকে লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনায় আজ রবিবার কলেজটির শিক্ষক পরিষদ একটি জরুরী সভা করে। সভা থেকে এ ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন।  

অধ্যক্ষ সর্বানন্দ বালা বলেন, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আমরা কলেজে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করি। তরিকুলসহ কতিপয় ছাত্রলীগ নেতারা এই আলোচনা সভা আয়োজনের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। যেহেতু কলেজে বর্তমানে কোন ছাত্রসংসদ নেই। তাই আমরা তাদেরকে দায়িত্ব দেইনি। এ কারণে তরিকুলসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার আমার নিজ কক্ষে আমাকে লাঞ্ছিত করে।

ওই কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জহুরুল হক সরদার বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর আমরা গতকাল শনিবার শিক্ষকরা সভা করেছি। এই সভায় এসে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন তালুকদারসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা বিষয়টি নিয়ে আজ রবিবার সকাল ১০টায় আমাদের সঙ্গে বসে একটি সুরাহা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু রবিবার তারা আসেনি বলে আমরা এই সিধান্ত নিয়েছি।  

ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মীর মঞ্জুর-ই-মওলা বলেন, তরিকুল ইসলাম সরদার বিভিন্ন সময়েই বিভিন্ন শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর একটি সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস করবো না।  

এ ব্যাপারে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস তরিকুল ইসলাম সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিনে শিক্ষকরা কলেজে কোন কর্মসূচি পালন করেনি। এ বিষয় সর্ম্পকে আমি অধ্যক্ষ সারের কাছে জানতে চাইলে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপবাদ দেয়। আমি স্যারকে কোন লাঞ্ছিত করিনি।  

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন তালুকদার বলেন, তরিকুল যদি এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তা হলে সেটা খুব নিন্দনিয়। খুব শ্রীঘ্রই তরিকুলসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে স্যারদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করবো।

কোটালীপাড়া থানার ওসি মোঃ কামরুল ফারুক বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে কোন পক্ষ আমাদের কাছে আসেনি। শুনেছি এটা মিমাংশা হয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে আমরা ব্যাবস্থা নিব।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিলাল হোসেন কালের কন্ঠকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতার নামের প্রতিষ্ঠান যেভাবে চলে তা সন্তোষ জনক নয়। এটি আরো ভালো ভাবে চলা উচিৎ। শিক্ষক ছাত্রের বিরোধের বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


মন্তব্য