kalerkantho


কালেরকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ত্রাণ পেল শেরপুরের বন্যার্তরা

শেরপুর প্রতিনিধি    

২০ আগস্ট, ২০১৭ ০২:৩৫



কালেরকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ত্রাণ পেল শেরপুরের বন্যার্তরা

দৈনিক কালেকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর ত্রাণসামগ্রী পেয়েছে শেরপুরে কুলুরচর-বেপারিপাড়া এলাকার বন্যার্তরা। শনিবার বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কুলুরচর-বেপারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের মাঝে ৬৫০ কেজি চিড়া-মুড়ি, গুড় বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতি পরিবারকে ৫টি করে খাবার স্যালাইন, একটি করে দিয়াশলাই, মোমবাতি, এক পাতা করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০টি করে মেট্রোনিডাজল ও ১০টি করে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ছানোয়ার হোসেন ছানু, ইউএনও মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. বায়েজিদ হাসান ও শামীম আরা বেগম ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন।  

চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মো. জাফর মিয়া কালেরকণ্ঠের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের লেখার কারণেই দ্রুত প্রশাসন এলাকার প্রতি নজর দিয়েছে এবং বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুর রহমান ত্রাণ বিতরণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এদিন চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুলুরচর-বেপারিপাড়া গ্রামে বন্যার্ত হতদরিদ্র ৬৫০ জনকে ত্রাণসমাগ্রী দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুই ইউনিয়ন মিলিয়ে ১৫টি গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার মানুষের  মধ্যে এক কেজি করে চিড়া, মুড়ি ও গুড়, ৫ হাজার খাবার স্যালাইন ও ১০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে।  

উল্লেখ্য, শনিবারের কালেকণ্ঠে কুলুরচর-বেপারিপাড়ায় বন্যার্তদের হাহাকার নিয়ে ‘কিবায় আছি কেউ খোঁজ নেয় না’ শিরোনামে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে।

এদিকে, শেরপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, দশানী ও মৃগী নদীর পানিবৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় জেলার তিন উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ৮০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকার পানিবন্দি লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ডুবে গেছে সদ্যরোপন করা আমন ও সব্জীর আবাদ। এসব এলাকার রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বন্যার কারণে চরাঞ্চলের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় সদর উপজেলার ৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১০টি মাদ্রাসা এবং একটি কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।  

চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের কুলুরচর-বেপারিপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুলুরচর-বেপারীপাড়া এলাকার মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এজন্য নদীভাঙনের কবল থেকে তাদের রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ দাবী করেছেন।  

শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ আতিউর রহমান আতিক বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে কুলুরচর-বেপারিপাড়া এলাকায় একটি স্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


মন্তব্য