kalerkantho


পড়া না পারায় ২৮ শিশুকে নর্দমার পানি খাওয়ালেন শিক্ষক

শরীয়তপুর প্রতিনিধি    

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ২২:৪১



পড়া না পারায় ২৮ শিশুকে নর্দমার পানি খাওয়ালেন শিক্ষক

ক্লাসের পড়া না পারায় চতুর্থ শ্রেণির ২৮ শিশু শিক্ষার্থীকে নর্দমার পানি খাওয়ালেন এক শিক্ষক। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষক শাহানাজ পারভীন হাওয়ার অপসারণ ও বিচার দাবিতে আজ শনিবার সকাল থেকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুল মাঠে অবস্থান নেন।

স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গঙ্গাপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মেয়ে ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানাজ পারভীন হাওয়া বুধবার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। ক্লাসে ৩১ জন শিক্ষার্থী ছিল। এ সময় তিনজন শিক্ষার্থী ছাড়া কেউ ক্লাসের পড়া বলতে পারেনি। পড়া না পারার শাস্তি হিসেবে শিক্ষক শাহনাজ পারভীন হাওয়া বাকি ২৮ শিক্ষার্থীকে স্কুলের পেছনে থাকা নর্দমার পানি খাওয়ান। ওই নর্দমায় স্কুলের পয়ঃনিষ্কাশন লাইনসহ আশপাশের ময়লা এসে জমা হয়। এ ছাড়া দুই সপ্তাহ আগে একটি মরা কুকুরও ওই নর্দমায় ফেলা হয়। শিক্ষার্থীরা লজ্জায় প্রথমে কাউকে না বললেও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার বিষয়টি অভিভাবকরা জানতে পারেন। আজ শনিবার স্কুল খুললে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুলে অবস্থান নেন এবং অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবি জানান।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদের বাবা মান্নান হাওলাদার বলেন, "বুধবার রাত থেকে আমার ছেলে পুরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছেলেকে সুস্থ করতে হাসপাতালে দৌঁড়াদৌড়ি করে আমার ১২০০ টাকা খরচ হয়েছে। পরে জানতে পারি, হাওয়া ম্যাডাম জাহিদকে নর্দমার পচা পানি খাইয়েছে। "

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শামসুজ্জোহার বাবা আনোয়ার হোসেন, কাঞ্চনমালার বাবা মজিবর শেখ, টিয়া আক্তারের বাবা টিটু চৌকিদার ও আসিফের বাবা হেলাল চৌকিদার জানান, হাওয়া ম্যাডাম তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের পচা পানি খাইয়ে জঘন্য অপরাধ করেছেন। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে দুই দিন ধরে কিছুই খেতে পারেনি। সুস্থ করার জন্য শুধু স্যালাইন খাওয়ানো হয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বোরহান বলে, "লামিশা, নিরব ও আমি পড়া পেরেছি। তাই আমাদের পচা পানি খেতে হয় নাই। ম্যাডামের কথামতো আমি জগ ভরে নর্দমা থেকে পানি আনি। প্রথমে আসিফকে এক গ্লাস পচা পানি খাওয়ানো হয়। এরপর বাকিদের খাওয়ানো হয়। "

অভিযুক্ত শিক্ষক শাহানাজ পারভীন হাওয়া বলেন, "আমি শিশুদের পচা পানি খাওয়ানোর কথা বলেছি। কিন্তু খাওয়াই নাই। " বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, "পড়া না পারার জন্য শিশুদের এ ধরনের শাস্তি দেওয়া জঘন্য অপরাধ। এলাকার মুরব্বিরা বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। " এ বিষয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও অভিযুক্ত শিক্ষক শাহানাজ পারভীন হাওয়ার বাবা ইউনুস মৃধা বলেন, "আমার মেয়ে কাজটা ঠিক করে নাই। আমি এলাকার লোকজন নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করব। " 


মন্তব্য