kalerkantho


হোমনায় আইন-শৃঙ্খলা সভায় মেয়রের আবেদন

'বালুদস্যুদের হাত থেকে লটিয়াবাসীকে বাঁচান'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:২৮



'বালুদস্যুদের হাত থেকে লটিয়াবাসীকে বাঁচান'

বালুদস্যুদের হাত থেকে হোমনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লটিয়াবাসীকে বাঁচাতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কুমিল্লার হোমনা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম।

সভায় পৌরসভার সার্বিক সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে মেয়র বলেন, "বালুদস্যুদের হাত থেকে লটিয়াবাসীকে বাঁচান।

"  বৃহস্পতিবার পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেয়র  বলেন, "মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে আড়াইহাজার এবং পূর্ব পাড়ে হোমনা উপজেলার লটিয়া ও শ্রীমদ্দি গ্রাম অবস্থিত। আড়াইহাজার উপজেলার বালুদস্যুরা নদীতে ৭-৮টি ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হোমনা অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। ফলে বিলীন হতে চলেছে নদী তীরবর্তী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড লটিয়াগ্রামের শত শত একর ফসলি জমি ও বাড়িঘর।

ইউএনও কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, লটিয়াবাসী গতবছর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জমিজমা, বাড়িঘর রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হোমনা থানা অভিযানও চালায়। তবে বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন।

আইন-শৃঙ্খলা সভায় ইউএনও কাজী শহিদুল ইসলাম শিগগিরই মেঘনা নদীতে বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালানার আশ্বাস দিয়ে রাজনীতিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হোমনা থানার ওসি রসুল আহমেদ নিজামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুল, ইইনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম গণি, মো. শাহজাহান মোল্লা, জসীম উদ্দিন সওদাগর, নাজিরুল হক ভূঁইয়া, জালাল উদ্দিন খন্দকার, কামরুল ইসলাম ও মো. তাইজুল ইসলাম, ইউসিসিএ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সরফরাজ খান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ এর ডিজিএম মো. আক্তার হোসেন,  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

সভায় ঈদকে ঘিরে অপরাধ প্রবণতা যাতে বৃদ্ধি পেতে না পারে এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দিনরাত যানবাহন ও যাত্রীসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে  চলাচল করতে পারে- সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নজরদারি আরোপ, পশুর হাট নির্বিঘ্ন রাখা, রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত, জালটাকা প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, কোরবানির স্থান নির্ধারণ ও পশুর বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বাল্যবিয়ে রোধে পদক্ষেপ ও সচেতনতা বৃদ্ধি, ঈদকে ঘিরে যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা রোধে প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর আলোচনা হয়।  


মন্তব্য