kalerkantho


তানোরে এমপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ২২:৪৮



তানোরে এমপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা আটক

প্রতীকী ছবি

রাজশাহীর তানোরে এমপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি রবিন সরকারকে আটক করেছে পুলিশ। রবিন তানোরের আমশো গ্রামের আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী বাবুল সরকারের ছেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে।

অভিযোগ উঠেছে, এমপি নিজে ছাত্রলীগ নেতা রবিন সরকারের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাঁকে আটক করতে বাধ্য করেন। এমপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় গত কয়েকদিন আগে রবিনকে অবৈধভাবে বরখাস্তও করা হয়। এরপর তার স্থলে রামিম সরকার নামের আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে সভাপতি করা হয়েছে কোনো সম্মেলন বা স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের মতামত ছাড়ায়। এ নিয়েও এলাকায় রয়েছে চরম ক্ষোভ।

রবিনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, রবিন সরকার ১৫ আগস্ট শোকের দিনে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বিকেল আলাদাভাবে শোক র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন। ওই আলোচনা সভায় তানোর-গোদাগাড়ী আসনের এমপি ফারুক চৌধুরীর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে রবিন সরকার বক্তব্য দেন।

এরপর ওই কথা পৌছে যায় এমপির কানে।

এতে এমপি ক্ষুব্ধ হয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজে উপস্থিত থেকে রবিন সরকারের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে যান। একপর্যায়ে রবিনের বাড়িতে ঢুকে তাকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। এ ঘটনায় তানোর জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে রবিনকে আটকের পর এমপির পক্ষেই অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ আনন্দ মিছিল করেন। এ নিয়ে তানোরে সন্ধ্যার পর ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলামে সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পরে পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিশ্চয় কোনো বড় অপরাধ করেছেন ওই ছাত্রলীগের নেতা তাই এমপি তাকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করেছে। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবো।

এদিকে এমপি ফারুক চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। তার বাড়ির পাশেই একটি অনুষ্ঠান শেষে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রবিনকে ধাওয়া দেয়। এতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমি সেখানে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। আমি তাকে আটক করিনি। ’

এমপি আরো বলেন, ‘ছাত্রলীগের ওই নেতা বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। আমার সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটেনি। ’


মন্তব্য