kalerkantho


পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

নান্দাইলে পুকুর থেকে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ২১:০৫



নান্দাইলে পুকুর থেকে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার

নিহত সোহেল মিয়া

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের একটি পুকুর থেকে দুইদিন আগে নিখোঁজ হওয়া সোহেল মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোহেল মিয়া ওই ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায়  একজন ইজিবাইক চালক। নিহত পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা মুঠোফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সোহেলকে হত্যা করা  হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাশিনগর গ্রামের অশ্রাব উদ্দিন (৫৫), আশাদুল (৩০), আল-আমীন (৩২) ও ছিদ্দিককে (৫০) আটক করে থানায় আনে।

গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে সোহেলের মা নুরজাহানকে (৫৫) পাওয়া যায়। তিনি জানান, গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যার পর একটি ফোন পেয়ে সোহেল বাড়ির বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে সোহেলের দ্বন্দ্ব চলছিল।

সোহেলর বোন চম্পা আক্তার বলেন, তাঁর ভাই ইজিবাইক নিয়ে মাঝে মধ্যে বাহিরে থাকতো।

তাই দুইদিন না আসাতে খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না। এক পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের পুরাতন বাড়ির পুকুরের পানিতে একটি লাশ ভেসে থাকার খবর পান। সেখানে গিয়ে তিনি লাশটি তাঁর ভাই সোহেলের বলে শনাক্ত করেন। কিন্তু পুরাতন বাড়িতে বসবাসকারী তাঁদের স্বজনেরা (দাদা-চাচা-চাচাতো ভাই) সোহেলের মরদেহ দেখে না চেনার ভান করে। অন্যদিকে সোহেলের এক ভাইরা ভাই সুমনের বাড়িও চাচার বাড়ির পিছনে। তাঁর সাথেও সোহেলের বিবাধ ছিল শ্বশুরবাড়ির ঘটনা নিয়ে। এই অবস্থায় সব মিলে তাঁর ব্যাপক সন্দেহ হলে পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। এ সময় এদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা অসংলগ্ন তথ্য দিতে থাকে। পরে সেখান থেকে চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে মফিজ উদ্দিনের ছেলে ভাইরা ভাই সুমন পালিয়ে যায়।

নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাফায়াত হোসেন বলেন, লাশের মুখ দাহ্য কোনো তরল দ্বারা পুড়িয়ে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে খুনিরা। এ ছাড়া পুকুরের পানি থেকে লাশ উদ্ধারের সময় নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্যে ময়নাতদন্তের জন্যে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য