kalerkantho


সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি পৌনে তিন লাখ মানুষ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ১২:৫৬



সিরাজগঞ্জে পানিবন্দি পৌনে তিন লাখ মানুষ

ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীতে পানি দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ১ সেন্টিমিটার কমে আজ বৃহস্পতিবার তা বিপৎসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ করতোয়া, গুমানী, হুরাসাগর, ফুলজোড় নদীর পানিও বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা আর বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ওষুধ সংকটে ভুগছেন তারা। ত্রাণের অভাবে অসহায়ভাবে দিন কাটছে এসব বন্যার্তদের। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও নেই ত্রাণ তৎপরতা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলার বন্যাকবলিত পাঁচটি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের প্রায় তিন শ গ্রামের ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ মানুষই পাউবোর বাঁধ, উঁচু রাস্তাঘাট ও স্থানীয় স্কুল-কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে। প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি পুরোপুরি এবং এক হাজার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ১৭৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ প্রায় আট লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাপুর উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যা হলেও এখন পর্যন্ত এসব এলাকায় মানুষের মাঝে কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি।

শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি এলাকার কৃষক মিজান জানান, বন্যার পানি বাড়িতে ওঠার কারণে তিনি উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন গত চার দিন ধরে। এখন পর্যন্ত তাদের দেখতে কোনো চেয়ারম্যান বা মেম্বারও আসেননি ত্রাণ তো দূরের কথা। কাজিপুর উপজেলার দিনমজুর শাহাদত জানান, বাড়িতে সাত দিন ধরে পানি উঠেছে। পানি বাড়ার কারণে বাড়িতে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় গত তিন দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন তিনি। বিশুদ্ধ পানি আর শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ এখনো বিশুদ্ধ পানি বা ত্রাণ নিয়ে আসেনি।


মন্তব্য