kalerkantho


শিক্ষকের বহিষ্কার দাবিতে উত্তাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ২২:৩৮



শিক্ষকের বহিষ্কার দাবিতে উত্তাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুল হক ভুঁইয়া তারেকের বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আজ বুধবার সকাল থেকেই প্রশাসনিক ভবন ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে এবং ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

 

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় অংশ না নিয়ে নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার অভিযোগে ওই শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি করছে তারা। এর আগে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কারর চেয়ে উপাচার্য বরাবর স্বারকলিপি দেয় ছাত্রলীগ।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নবনির্মিত ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পরেই প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে আলোচনা সভায় অংশ নেয়। এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলী আশরাফ।  

কিন্তু আলোচনা সভায় অংশ না নিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ভুঁইয়া তারেক নিজ বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছিলেন। শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দ্রুত সেখানে যায় এবং ঐ শিক্ষককে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলে।

এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ এবং দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়াও ঔ দিনই ছাত্রলীগ উপাচার্য বরাবর একটি স্বারকলিপি দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল ইসলাম মাজেদ স্বাক্ষরিত স্বারকলিপিতে বলা হয়, মাহবুবুল হক ভুঁইয়া তারেক শোকের দিনে ক্লাস নিয়ে জাতির পিতাকে অবমাননা করেছেন। শুধু তাই নয়, এ ঘটনা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধার পরিপন্থী, এতে বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে যা একটি দেশদ্রোহী কাজ। স্বারকলিপিতে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি করা হয়।  

এদিকে বুধবার সকাল থেকেই সকল একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পূর্বনির্ধারিত ১১টি চূড়ান্ত পরীক্ষাসহ সকল প্রকার ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় দপ্তরে আটকে পড়েন উপাচার্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে বিকেল ৬টায় ছাত্রলীগের সঙ্গে উপাচার্য, ডিন এবং প্রক্টরিয়াল বডির দীর্ঘ আলোচনা হয়। কোন রকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করছিলো ছাত্রলীগ।

ক্লাস নেওয়া প্রসঙ্গে মাহবুবুল হক ভুঁইয়া তারেক মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে, শিক্ষার্থীরা কিছু বিষয় না বুঝার কারণে আমার কাছে বুঝতে এসেছিলো। অফিসরুমে গেস্ট ছিলো, তাই ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম।

প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগানোয় দপ্তরে আটকে পড়েন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলী আশরাফ। ফলে তাঁর কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মঙ্গলবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য