kalerkantho


শাহজাদপুর বাঁধে ভাঙন, সিরাজগঞ্জ সদরের বাঁধ চুইয়ে আসছে পানি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ১৮:১৬



শাহজাদপুর বাঁধে ভাঙন, সিরাজগঞ্জ সদরের বাঁধ চুইয়ে আসছে পানি

দ্বিতীয় দফায় বন্যার পানির চাপ ও প্রবল শ্রোতের কারণে সিরাজগঞ্জ  জেলার ৭৮ কিলোমিটার বাঁধের প্রায় পুরোই এখন ঝুঁকির মধ্যে। এরই মধ্যে আজ বুধবার সকালে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার গোপালপুরের পাচিল যমুনা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সড়কে প্রবল পানির তোড়ে প্রায় ১২০ মিটার  ভেঙে যায়।

বাঁধ ভেঙে যমুনার পানির প্রবল স্রোত হুরাসাগরে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জালালপুর, বেলতৈল ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে অন্তত হাজার একর আমন ধান, ১২টি স্কুল এবং ৩০টি তাঁত কারখানা। আর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। বন্ধ হয়ে পড়েছে গোপালপুরের সঙ্গে  শাহজাদপুর শহরের যাতায়াত।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার রানীগ্রাম বাঁধের ১০টি স্থান দিয়ে পানি চুইয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। ফলে ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে বাঁধটি। এই বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে পৌর এলাকার তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে বলে জানা গেছে।

শাহজাদপুর উপজেলার গোপালপুরের পাচিল যমুনা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের সড়কটি মেরামতের জন্য বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে তাগাদা দেওয়া হলেও তারা কোনও উদ্যোগ না নে‌ওয়ার কারণে আজ সকালে হঠাৎ সড়কটি ভেঙে  যায়।

এতে গোপালপুরের সঙ্গে শাহজাদুরের যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাঁধটি ভাঙার পর এখন পর্যন্ত কর্মকর্তারা সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে পানির প্রবাহে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে গোপালপুরের সঙ্গে  সিরাজগঞ্জ শহরের আঞ্চলিক সড়কটিও। যে কোনও সময় দেখা দিতে পারে এ সড়টিতেও ভাঙন।

অপরদিকে, পানি প্রবেশ করায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের কৃষক মজনু জানান, পানির প্রবাহের সাথে সাথে জমিতে পলির পরিবর্তে বালু পড়ায় জমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও এখানে নতুন করে আবার চাষাবাদ করা যাবে কিনা- তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা।

গত কয়েক দিন ধরেই সদর উপজেলার রানীগ্রাম বাঁধের বেশ কিছু অংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আজ বুধবার সকালে বাঁধের ১০টি স্থান দিয়ে পানি চুঁইয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। ফলে ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে বাঁধটি। এই বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে পৌর এলাকার তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। পৌরবাসী অভিযোগ করে জানান, প্রতিবছর বন্যার সময় পৌরবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করে। তারপরও শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি রক্ষায় ও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেয় না। বন্যা আসলেই তোড়জোড় শুরু হয় কাজে।

সিরাজগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, "শাহজাদপুরে বাঁধ বিলীনে আপাতত পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। তবে শুষ্ক মৌসুমে আবার বাঁধটি নির্মাণ করা হবে। আর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রানীগ্রাম বাঁধের বেশকিছু অংশ দিয়েপানি চুইয়ে আসছে। পানি চোয়ানো রোধ করতে এরই মধ্যে কাজ করা হচ্ছে। "  


মন্তব্য