kalerkantho


কক্সবাজরে ইউএসএআইডি’র প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশের শিক্ষার মান ক্রমাগত উন্নয়ন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ২৩:৩৩



বাংলাদেশের শিক্ষার মান ক্রমাগত উন্নয়ন হচ্ছে

ছবি: কালের কণ্ঠ

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি (USAID)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সোমবার (১৭ জুলাই) কক্সবাজারে রিডিং ইনহ্যান্সমেন্ট ফর এডভান্সিং ডেভেলপমেন্ট (রিড) প্রকল্পের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা শিশুদের পাঠদানের দক্ষতা উন্নয়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন-‘ বাংলাদেশের শিক্ষার মান ক্রমাগত উন্নয়ন হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগিয়ে চললে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। ’

প্রতিনিধি দল জানান , ইউএসএআইডি  (USAID) বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ও বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে সেভ দ্য চিলড্রেন কেরিডিং ইনহ্যান্সমেন্ট ফর এডভান্সিং ডেভেলপমেন্ট (রিড) প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে দেশের ৭টি বিভাগের ১৩টি জেলায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কক্সবাজার জেলার ৯১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩৫ কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্পের মাধ্যমে।

পরিদর্শনে আসেন, ইউএসএআইডি’র অফিস অফ একুইজিশন এন্ড এসিস্টেন্স ডাইরেক্টর স্টেনলি ক্যান্টন, অফিস অফ পপুলেশন, হেলথ, নিউট্রিশন এন্ড এডুকেশন (পিএইচএনই) সিনিয়র এডুকেশন এডভাইসর  মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট ফারহিন খুররম, ফিনান্সিয়াল এনালিস্ট কাজী তাহমিনা হক, বাজেট স্পেশালিস্ট তাইসির চৌধুরী ও মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট ববি সবুর।

ইউএসএআইডি ও রিড প্রকল্পের প্রতিনিধি দলকে বিদ্যালয়ে স্বাগত জানান, পশ্চিম মেরংলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান, প্রধান শিক্ষক বেবি বড়ুয়া, পানেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন আহমদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরিদর্শনের এক পর্যায় স্টেনলিক্যান্টন বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষার পঠন পদ্ধতি ও তাদের দক্ষতা দেখে আমরা অত্যন্ত খুশি। এসব শিশুরা যোগ্য নাগরিক হবে। তারা দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে।

শিশুদের দক্ষতা দেখে বুঝা যাচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের রিডিং ইনহেন্সমেন্ট ফর এডভান্সিং ডেভেলপমেন্ট (রিড) প্রকল্পের লিয়েনা গার্টস, চিফ অফ পার্টি মো. আকিদুল ইসলাম, ডেপুটি ডাইরেক্টর-রিডিংসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাসহ কক্সবাজারে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও কোডেক’র ফোকাল পারসন ও ডেপুটি ডাইরেক্টর (এডুকেশন) তাসাদ্দুক হোসেন দুলু, এ কে এম হূমাইয়ুন কবির, কক্সবাজারের রিড প্রকল্পের প্রোজেক্ট কো-অরডিনেটর এই পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করেন।

রিডিং ইনহেন্সমেন্ট ফর এডভান্সিং ডেভেলপমেন্ট (রিড) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ও বাংলা ভাষায় শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে সেভ দ্য চিলড্রেনকে রিডিং ইনহ্যান্সমেন্ট ফর এডভান্সিং ডেভেলপমেন্ট (রিড) প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে দেশের ৭টি বিভাগের ১৩টি জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্পের কার্যক্রম। কক্সবাজার জেলার ৯১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩৫ কমিউনিটি রিডিং ক্যাম্পের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ রিড প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার-মিডিয়া রিলেশন্স মেহের নিগার জেরিন জানান, ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম হিসেবে চার বছর মেয়াদী রিড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেভ দ্য চিলড্রেন। এ প্রকল্পটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছে। প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নই রিড প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা পড়ার ও শেখার দক্ষতায় ধ্বনি সচেতনতা, বর্ণজ্ঞান, শব্দভান্ডার, সাবলীলতা ও বোধগম্যতা’য় রিড প্রকল্প এ পাঁচটি উপাদানের সমন্বিত কার্যকরিতা সুশৃঙ্খলভাবে নিশ্চিত করবে। বিদ্যালয় জীবনের শুরুতে পড়ার মজবুত ভিত নিশ্চিত করার মাধ্যমে একই শ্রেণিতে শিশুর পুনরাবৃত্তি এবং প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ঝরে পড়ার হার হ্রাস করা সম্ভব হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে রিড প্রকল্প প্রত্যক্ষভাবে সারাদেশের ১.৫ মিলিয়ন শিশুর পঠন-দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অনুশীলনের প্রসার, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধাদির সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার উন্নয়ন ও অভিযোজন এবং স্বল্প কার্বন উন্নয়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো বিষয়ে  বাংলাদেশে সহায়তা দিচ্ছেন, প্রদান করে আসছে ইউএসএআইডি। ১৯৭১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে বাংলাদেশকে ছয়শ’ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। ২০১৬ সালে ইউএসএআইডি বাংলাদেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে প্রায় বিশ কোটি ডলার প্রদান করেছে।


মন্তব্য