kalerkantho


তিতাসে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৬

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৭ ১৭:০১



তিতাসে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৬

কুমিল্লার তিতাসে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সুমন মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে তারাবির নামাজের পর উপজেলার বারকাউনিয়া গ্রামে এ লোম হর্ষক ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন ওই গ্রামের জালু মিয়ার ছেলে। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সাইদুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়েছে।  

যুবক হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ ঘাতককে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. লিটন মিয়া (৩৩), মো. রিপন মিয়া (৩০), আলাউদ্দিন (২৬) এবং গনি মিয়ার ছেলে মো. ধনু মিয়া (৬০), এর ছেলে অনিক মিয়া (২১) ও মোহাম্মদ (১৯)।  

পুলিশ ও এলাবাসী সূত্রে জানা যায়, জালু মিয়ার সাথে তার চাচাতো ভাই জলিল মিয়া ও ধনু মিয়ার বসত বাড়ির তিন শতক জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে ধনু মিয়ার মিথ্যা মামলায় জালু মিয়ার ছেলে নিহত সুমন মিয়া এক মাস জেল খাটার পর এক সপ্তাহ আগে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে আসে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে জালু মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া তারাবি নামাজ শেষে ধনু মিয়ার ঘরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ধনু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া ও রিপন মিয়ার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে সুমনকে মারধর করে তারা।

পরে জলিল মিয়ার ছেলে রিপন, আলাউদ্দিন, গনি মিয়া রামদা নিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। সে সময় সময় সুমনের চিৎকার শুনে তার ভাই সাইদুল এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে যখম করে। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় তাদের দুইজনকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। সাইদুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ছয়জনকে আটক করে।

নিহত সুমনের বাবা জালু মিয়া বলেন, আমি নিরীহ লোক তাই আামার বাড়ির জায়গা তারা জোর করে দখল করেছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এক মাস জেল খাটায়। এক সপ্তাহ আগে জেল থেকে বাড়ি আসে বাড়ি আসার পর গায়ে লাইগা ঝগড়া করে আমার ছেলেকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলে হত্যা বিচার চাই।  

সাতানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল আলম জানান, জালু মিয়ার চাচাতো ভাই ধনু মিয়া ও জলিল মিয়ার সাথে তিন শতক জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। আমি ঈদের পর এর শালিস দরবার করে দিব বলে বলেছিলাম। কিন্তু জলিল আর ধনু মিয়ার ছেলেদের আর সহ্য হয়নি। তাই এ দুর্ঘটনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তিতাস থানার ওসি মোঃ নুরুল আমিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং এর সাথে জড়িত থাকায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত সুমন মিয়ার লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


মন্তব্য