kalerkantho


মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের আরও ২টি শিবির পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ মার্চ, ২০১৭ ২১:৩৬



মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের আরও ২টি শিবির পরিদর্শন

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের অবস্থা জানতে কক্সবাজারে আসা ১০ সদস্যের মিয়ানমার সরকারের তদন্ত কমিশনের প্রতিনিধি দলটি আজ সোমবার আরও ২টি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার বালুখালী এবং টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।  

তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে শিবির দু'টিতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের দুঃখ-দুর্দশার বিবরণ শুনেছেন।

উখিয়া ও টেকনাফের দু'টি রোহিঙ্গা শিবিরেই পর্দ্দার এপার-ওপারে বসে নির্যাতিত রোহিঙ্গা ও তদন্ত কমিশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে কথা হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধিরা নির্যাতিত রোহিঙ্গা ও তদন্ত কমিশনের মধ্যে শিবির সমূহে বৈঠকের সমন্বয় করেন।  

মাঝখানে পর্দ্দা টাঙ্গিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে টেকনাফের লেদা শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার আবদুল মতরব জানান- আমরা নির্যাতিত রোহিঙ্গারা হয়তোবা রাগে-ক্ষোভে মিয়ানমার বাহিনীর প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলতে চাইব না মনে করেই আয়োজকরা পর্দ্দা টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা এক প্রকার ভালই হয়েছে। আসলেই আমাদের রোহিঙ্গা মা-বোন যারা কিনা সেনাদের হাতে ধর্ষিত হয়েছেন তারা ওদের (প্রতিনিধি) সামনে বসতে রাজি হতনা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সুত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের তদন্ত কমিশনের ১০ সদস্যের  প্রতিনিধি দলটি গত রবিবার কক্সবাজার এসে জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইনভেষ্টিগেশন কমিশনের সেক্রেটারী জ্য ম্যাইন্ট পি। জেলা প্রশাসকের সাথে রোহিঙ্গাদের অবস্থান সহ দুই দেশের বাণিজ্যিক সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

তারা এদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখবেন।

প্রসঙ্গত গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩টি সীমান্ত রক্ষী চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর সেদেশের সেনা অভিযানের মুখে দলে দলে রোহিঙ্গারা এপাড়ে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের মতে অনুপ্রবেশ করা এরকম রোহিঙ্গার সংখ্যা কমপক্ষে ৭০ হাজার।  


মন্তব্য