kalerkantho


লাকসামে বিএনপির ৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৭ ২০:৫৪



লাকসামে বিএনপির ৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ

২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ চলাকালীন সময়ে কুমিল্লার লাকসামে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে বাবুল মিয়া নামে এক রিক্সাচালক নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক ২টি মামলায় লাকসাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির ৭ নেতাকর্মী আজ সোমবার কুমিল্লার ৩নং আমলী আদালতে আত্মসমর্পন করেছেন। তবে শুনানী শেষে আজ বিকেলে ৩নং আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আরাফাত উদ্দিন আসামীদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।  

জেলহাজতে প্রেরণ করা বিএনপির নেতাকর্মীরা হলেন; লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন মিলন, পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার মামুন, যুবদল কর্মী ফারুক, আলমগীর ও রাজু। মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  

মামলার বিবরণ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ২৬ নভেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাতাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধের সময় লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের নোয়াখালী রোডে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাবুল মিয়া নামে এক রিক্সাচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।  

এ ঘটনায় নিহত ওই রিক্সাচালকের স্ত্রী হালিমা খাতুন বাদী হয়ে লাকসাম পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকনসহ ৩৬ জন এবং লাকসাম থানার তৎকালীন এসআই সুখেন্দু বসু ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং উভয় মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১ হাজার বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে আসামী করে থানায় পৃথক দু'টি মামলা দায়ের করেন।  

ওই মামলায় আজ সোমবার কুমিল্লার আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে শুনানী শেষে আদালত অভিযুক্তদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আজ বিকেলে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম 'কালের কন্ঠকে' বলেন, ঘটনার সময় পুলিশের গুলিতে ওই রিক্সাচালক নিহত হয়। কিন্তু পুলিশ নিজেদের বাঁচাতে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এছাড়া ওই ৭ নেতাকর্মীর মুক্তির দাবি জানান তিনি।


মন্তব্য