kalerkantho


ভোলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা

ভোলা প্রতিনিধি    

১৭ মার্চ, ২০১৭ ১৭:০৬



ভোলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা

ভোলার লালমোহনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনতাই, ভাঙচুর ঘটনায়  এক বছরেও ওয়ারেন্টভুক্ত আট আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারা ওই এলাকার চিহ্নিত 'মৌমাছি বাহিনী' বলে পরিচিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য।

এসব সন্ত্রাসীরা একসময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এদের ধরছে না। থানার ওসির কক্ষেই তাদেরকে আড্ডা দিতে দেখা যাচ্ছে।

এমন সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় ত্যাগী আওয়াী লীগ নেতারাও। তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম আবু তাহের, রির্পোটার্স ইউনিটির সভাপতি মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি অমিতাভ অপু, টিভি জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি আহাদ চৌধুরী তুহীন, এস এ টিভির প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সাহাদাত হোসেন শাহীন, মাছরাঙা টিভির প্রতিনিধি হাসিব রহমান, প্রথম আলো'র প্রতিনিধি নেয়ামত উল্লাহ, সময় টিভির প্রতিনিধি নাসির লিটন, কালের কন্ঠ'র প্রতিনিধি শিমুল চৌধুরী, টিভি জার্নালিস্ট ফোরামের সম্পাদক আফজাল হোসেন, চ্যানেল ২৪'র প্রতিনিধি আদিল হোসেন তপু, চ্যানেল ডিবিসি'র প্রতিনিধি অচিন্ত্য মজুমদার, তজুমদ্দিন প্রেসক্লাব সভাপতি হেলাল উদ্দিন সুমন, মনপুরা প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, চরফ্যাশন যুগান্তর প্রতিনিধি শিপু ফরাজি, দৌলতখান প্রেসক্লাব সভাপতি শ ম ফারুক, বোরহানউদ্দিন যুগান্তর  প্রতিনিধি নীল রতন দে প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বছরের এই দিনে জেলা ও স্থানীয় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জেলার লালমোহান হামিম একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ভোলায় ফেরার পথে দেখতে পান লালমোহন সদর রোডে ওই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোখলেস মিয়ার মালিকানাধীন মিয়া প্লাজায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছিল মৌমাছি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। ওই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে সন্ত্রাসী তেল ব্যবসায়ী শাজাহান চেয়ারম্যান, তার ছেলে রাকিব হাসান, মৌমাছি বাহিনীর প্রধান ফরাদ হোসেন মেহের, কামাল কসাই, মোতাহেরের ছেলে জামাল উদ্দিন বিল্লাল, সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম, শাজাহান কুদ্দুসের ছেলে জোবায়ের, হেমায়েত মাওলানার ছেলে ফরিদসহ অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আরটিভি ও বিটিভি'র ক্যামেরা পারসনকে মাটিতে ফেলে বেদম মারধর করে। ছিনিয়ে নেয় তাঁর ক্যামেরা।

এমনকি আহত সাংবাদিকদের লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতাল এলাকা দেড় ঘণ্টা ঘিরে রেখে ফের হামলা করে ওই সন্ত্রাসীরা। এ সময় লালোহন থানার ওসি উপস্থিত থাকলেও প্রভাবশালী ওই মৌমাছি বাহিনীর সন্ত্রাসীদের কাছে পুলিশ ছিল জিম্মি। খবর পেয়ে লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ও যুব লীগ সভাপতি রিমন ছুটে এসে আহত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

এদিকে, লালমোহন থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও পুলিশ চিহ্নিত সাতজনকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয় আদালতে। পরে আদালত সরাসরি বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলার চিহ্নিত আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই আদেশ পাওয়ার পরও লালমোহন থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি। অভিযোগ রয়েছে আসামিদের আড্ডাস্থল হচ্ছে লালমোহন থানা। অপরদিকে, চিহ্নিত এসব আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা।

এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির আজ শুক্রবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, "ওই ঘটনায় পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সার্জশিট দাখিল করেছে। এরপর সাধারণত পুলিশের আর কোনও দায়িত্ব থাকে না। " আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্টের কোনও কাগজপত্র থানায় আসেনি বলেও জানান তিনি।  

 


মন্তব্য