kalerkantho


কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

১০০ কিলোমিটার হাঁটা কর্মসূচির দ্বিমত পোষণ করে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৬



১০০ কিলোমিটার হাঁটা কর্মসূচির দ্বিমত পোষণ করে স্মারকলিপি

বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ‘থাউজেন্ট মাইলস এক্সপেডিশন বাংলাদেশ’ আয়োজিত আগামী শনিবার ১৮ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপি ‘দি লংগেষ্ট ওয়াক-২০১৭’ শীর্ষক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে শনিবার ‘দি লংগেষ্ট ওয়াক-২০১৭’ উদ্বোধন করবেন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপি হাঁটা কর্মসূচীতে শতাধিক মানুষ অংশ নিবেন বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

বর্তমান মৌসুমে কচ্ছপের ডিম পাড়াসহ বিরল প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী রক্ষার বিষয়টি চিন্তা করে সৈকতের পরিবর্তে বিকল্প সড়কে হাঁটা কর্মসূচি পালনের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন এবং স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে এ ব্যাপারে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কক্সবাজার পিপলস ফোরাম এবং কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ।

তবে হাঁটা কর্মসুচির আয়োজক সংগটক দি লংগেষ্ট রান-২০১৭ এর আহ্বায়ক ও বেইসক্যাম্প বাংলাদেশ লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তামজিদ সিদ্দিক স্পন্দন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘পরিবেশবাদীরা হয়তোবা আমাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য না জেনেই এরকম দাবি জানিয়ে থাকতে পারে। অথচ আমরা পরিবেশের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়েই এরকম কর্মসূচি নিয়েছি। ’ তিনি আরো বলেন, হাঁটা কর্মসূচির মাধ্যমেই সৈকত তীরে ন্যাচার ক্যাম্প করে পরিবেশের সচেতনতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রচারণা চালানো হবে। সেই সাথে সাগর তীরে হাঁটার সময় ময়লা-আবর্জনাও পরিষ্কার করা হবে। এমনকি তারা কেবল মাত্র সৈকত নয়-মেরিন ড্রাইভ দিয়েও তাদের হাঁটা কর্মসূচি থাকার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে হাঁটা কর্মসূচির ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন কক্সবাজার পিপলস ফোরাম সংগঠনের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কানন পাল, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মামুন ও মিজবাহ উদ্দিন কবির, দপ্তর সম্পাদক শফিউল আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের দুদুকের আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম ও সাংবাদিক দীপন বিশ্বাস প্রমূখ।

 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সমুদ্রের ঝাড়ুদার খ্যাত কচ্ছপের ডিম পাড়া ও ডিম ফোটার মৌসুম। কচ্ছপ নির্জন সৈকতে ডিম পেড়ে তা ফোটার জন্য বালির ভেতরে লুকিয়ে রাখে এ সময়ে। কচ্ছপ ছাড়াও বিরল প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী রয়েছে, যারা পরিবেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এসময় শত শত লোকজন সৈকতে হাঁটলে তাদের পদভারে এসব প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে। তাছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবেও চিহ্নিত। যে কারণে সৈকতের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে সে ধরনের কর্মসূচি আইনত নিষিদ্ধ। তবে হাটতেই যদি হয় তাহলে সৈকত ঘেঁষে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে হাটার দাবি জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অপরদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জেলার একমাত্র নিবন্ধিত পরিবেশ সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ। স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ উর-রহমান মাসুদ, সহ-সভাপতি দীপক শর্মা দীপু,সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল দাশগুপ্ত, অর্থ সম্পাদক আজমল হুদা, দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার ধর ও কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ জুনাইদ প্রমূখ। এতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দখল দুষণে মারাত্মক প্রতিবেশ সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে সমুদ্র সৈকতের জীববৈচিত্র্যের উপর। একে রক্ষা করতে না পারলে কক্সবাজার উপকূলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার যে এলাকায় তারা হাটবেন- সেখানে বিভিন্ন প্রণালীর জীবের আবাস। সাগর পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে লাল কাঁকড়া। তাছাড়া সামুদ্রিক কাছিমকে ‘ন্যাচারাল ক্লিনার’ এবং লাল কাঁকড়াকে ‘বীচ ক্লিনার’ বলা হয়ে থাকে। ইসিএ তথা সমুদ্রতটে এসব প্রাণীর আবাস ও চারণ। বর্তমান সামুদ্রিক কাছিমের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর মৌসুম। বর্তমানে কচ্ছপ ডিম পাড়ার ও বাচ্ছা ফোটানোর মৌসুম। গত দুই মাসে প্রায় ২০০ কচ্ছপ ডিম ছেড়েছে। এখন সম্পূর্ণ ‘পিক সিজন। ’ এমন সময়ে সামুদ্রিক এলাকায় হাঁটা জীব বৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি।


মন্তব্য