kalerkantho


সোহাগপুরের বিধবাপল্লীর গণহত্যার ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ২০:২১



সোহাগপুরের বিধবাপল্লীর গণহত্যার ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে

শেরপুরের সোহাগপুর বিধবাপল্লী একটি ঐতিহাসিক স্থান। বিধবাপল্লীর গণহত্যার ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য একটি বই প্রকাশ, শহীদদের কবরস্থান সংরক্ষণ ঘটনাস্থলে একটি পাঠাগার/স্কুল স্থাপন সহ অচিরেই এলাকাটিকে ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহীদ পরিবারের যে সকল সদস্য এখনও জীবিত রয়েছেন, তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক ডা. মল্লিক আনোয়ার হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সোহাগপুর গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের বিধবাদের মাঝে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের দেওয়া মাসিক সম্মানীভাতা বিতরণকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এসকল পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। ব্র্যাকের মাইক্রো ফাইন্যান্সিং কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে জীবিত থাকা শহীদ পরিবারের ২৫ জন বিধবার মাঝে মাসিক ৪০০ টাকা হারে প্রতিজনের হাতে এক বছরের একত্রে ৪ হাজার ৮০০ টাকা করে তুলে দেওয়া হয়।  

এ উপলক্ষে বিধবাপল্লী শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশের খোলা মাঠে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরফদার সোহেল রহমান। ব্র্যাক জেলা প্রতিনিধি আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, কাকরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ তালুকদার মুকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হোসেন মাস্টার, সাংবাদিক এমএ হাকাম হীরা, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মাজহারুল আনোয়ার, সোহাগপুর বিধবাপল্লী শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন প্রমুখ।  

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরা গণহত্যা চালিয়ে ১৮৭ জন পুরষ মানুষকে হত্যা করে। এরপর থেকেই সোহাগপুর গ্রামটির নাম পাল্টে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে 'সোহাগপুর বিধবাপল্লী' নামে পরিচিতি লাভ করে। ওই ঘটনায় ৬২ জন নারী বিধবা হন।  

এ গণহত্যায় নেতৃত্বদানকারী আলবদর কমান্ডার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাতটি অভিযোগের মধ্যে তৃতীয় অভিযোগ ছিলো সোহাগপুরে হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণ।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে-২ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

পরে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের পর ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ সোহাগপুর বিধবাপল্লীকে 'সোহাগপুর বীরকন্যা পল্লী' নামে ঘোষণা করেন।


মন্তব্য