kalerkantho


ভারতে পাচারকালে তিন তরুণী উদ্ধার, আটক পাঁচ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ১৭:০৩



ভারতে পাচারকালে তিন তরুণী উদ্ধার, আটক পাঁচ

ভারতে পাচারকালে কলারোয়া সীমান্তে চট্রগামের তিন তরুণীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় আটক করা হয় পাঁচ পাচারকারিকে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার দমদম বাজার থেকে তাদেরকে উদ্ধার ও আটক করা হয়। জব্দ করা হয় দুটি প্রাইভেট কার।

আটককৃতরা হলো- নোয়াখালী জেলার বেগমগজ্ঞ থানার আলায়ারপুর গ্রামের গোলাম কবিরের ছেলে সাকেরুল কবির ওরফে ইকবাল, নারায়ানগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বারদি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমন, ঢাকা ডিএমপির শাহাজনপুর থানার শান্তিবাগ এলাকার আক্তারী কামালের ছেলে হাবিবুল্লাহ, শরিয়তপুর জেলার ডামুডা থানার কানাইকাটি গ্রামের লালচান মিয়ার ছেলে আক্কাজ আলী বাবু ও দেলয়ার হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন।

উদ্ধার হওয়া তিন তরুণী হলেন, চট্রগামের সিএমপির বায়োজিদ থানার তাজু মাস্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া কুমিল্লা জেলার বুড়িরচং থানার জগৎপুর গ্রামের শাহাজানের মেয়ে নাহিদা বেগম (২২) ফেনী জেলার সোনাগাজি থানার চরকৃষ্ণজয় গ্রামের মৃত মোহরম আলীর মেয়ে সুমি বেগম (১৯) ও একই থানার মির্জাপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে আরজু আকতার (১৮)।

উদ্ধার হওয়া তরুণী নাহিদা বেগম জানায়, তারা তিন জন কম বেতনে চট্রগামের ফোর এস গার্মেন্টে চাকরি করে। গত দুই মাস পূর্বে পাচারকারি সাকেরুল কবির ওরফে ইকবাল ও  মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমনের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই পাচারকারি তাদের তিনজনকে ওমানে নিয়ে বেশি বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।  

পরে মাথা পিছু ৪০ হাজার করে টাকা নিয়ে গত ১৫ মার্চ রাতে যশোর বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আসতে বলা হয়। যশোরে আসার পর পাচারকারিরা কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি তাদের সন্দেহ হলে উপজেলার দমদম বাজারে পৌছালে তরুণীরা চিৎকার করলে স্থানীয় জনতা তাদেরকে উদ্ধার ও পাচারকারিদের আটক করে থানা পুলিশের সোপার্দ করে।

উদ্ধার হওয়া তরুনী সুমি বেগম জানায়, যাশোর যাওয়ার পর পাচারকারিরা বিমান বন্দরে না নিয়ে দুটি প্রাইভেট কারে করে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পাচারকারিরা তাদেরকে জানায়, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা থানার বেতছড়ি গ্রামের নূর আলম ও খলিলুর রহমান কক্সবাজার জেলার রামু থানার ইদগড় গ্রামের তৈমুরেদের বিরুদ্ধে নারী পাচারের মামলা করবে বলে তারা শলাপরামর্শ করে।  

এতে তাদের সন্দেহ হলে তারা দমদম বাজারে পৌছার পর চিৎকার করে। এ সময় বাজারেরর লোকজন তাদেরকে আটক ও উদ্ধার করে।

কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: এমদাদুল হক শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে নাহিদা বেগম বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। জব্দ করা হয়েছে দুটি প্রাইভেট কার। উদ্ধার হওয়া তিন তরুণীকে সেন্টার ফর ইউমেন এন্ড চিলড্রেন স্টাডিস নামের একটি সংস্থার হেফাজতে রাখা হয়েছে।  

সংস্থার কর্মী শাহনারা খাতুন জানায়, তিন তরুণীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের অবিভাবকদের খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আসার পর তরুণীদে নিরাপদে নিজ গ্রামে ফেরত পাঠানো হবে।  


মন্তব্য