kalerkantho


কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কক্সবাজারে ইউপি চেয়ারম্যান ও পিআইও'র বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

১৪ মার্চ, ২০১৭ ১৫:২৪



কক্সবাজারে ইউপি চেয়ারম্যান ও পিআইও'র বিরুদ্ধে মামলা

জালিয়াতির মাধ্যমে কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কক্সবাজারের একজন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) ও একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল ৩ চেয়ারম্যান হামিদা আক্তার কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে টাকা আত্মসাতের একটি মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তপূর্বক ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

পেকুয়ার পিআইও সুব্রত দাশ এবং মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমকে মামলায় আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প 'মগনামা পশ্চিমকুল বেঁড়িবাধ ও শরেঘানা বন্যাবিধ্বংসী' অংশ মেরামত প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হামিদা আক্তার।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পের মগনামা পশ্চিমকুল বেঁড়িবাধ সংস্কারের জন্য এক লাখ ১৬ হাজার ৬৮৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় একই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ হামিদা আক্তারকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর হামিদা আক্তার কাজ করে প্রথম ধাপে ৫৮ হাজার ৩৪৩ টাকা উত্তোলন করেন। অবশিষ্ট টাকা উত্তোলনের জন্য পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুব্রত দাশের কাছে গেলে তিনি নানা গড়িমসি করেন। পরে হামিদা আক্তারের স্বাক্ষর জাল করে ওই  পিআইও এবং চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম যোগসাজসে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর পেকুয়া শাখা কৃষি ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ  করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ওই চেয়ারম্যান ওয়াসিমের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাতীয়তা সনদ ও জন্মসনদ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। প্রকল্পের টাকা আত্মসাত মামলার দুদকের আইনজীবী আবদুর রহিম জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে স্পেশাল জজ দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠিয়েছেন।

শিগগির মামলা তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র একটি প্রকল্পের অভিযোগে মামলা হলেও স্থানীয় সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্পের পুকুর চুরি হয়েছে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদে দাবি সচেতন মহলের। ওই অর্থবছরের সব প্রকল্পের কাজের তদারকি চেয়েছে এলাকাবাসী।

 


মন্তব্য