kalerkantho


ঘোড়ার গাড়িই যে চরাঞ্চলের একমাত্র ভরসা

রংপুর প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৭ ১৭:৪৪



ঘোড়ার গাড়িই যে চরাঞ্চলের একমাত্র ভরসা

গত তিন বছর থেকে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, আদিতমারী, হাতীবান্ধা, কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারীর তিস্তার চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি পণ্যসহ মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। ভ্যান সাদৃশ্য গাড়ির সামনে ঘোড়া জুড়ে দিয়ে ওই বাহনটি চলে।  

তিস্তার চরসহ প্রত্যন্ত গ্রামে রাস্তা-ঘাট অভাবে যেখানে কোন যান্ত্রিক বাহন চলাচল করে না সেখানে এই ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা। জমি থেকে উৎপাদিত ফসল গোলায় নিয়ে যেতে জুড়ি নেই এই বাহনটির। দিনদিন ঘোড়ার গাড়ির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে এসব এলাকায়।  

চরের আলুচাষি লুলু মিয়া বলেন, ক্ষেত থেকে উত্তোলনকৃত আলু কিনতে প্রতিদিন সকালে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে চরে হাজির হন মহাজনরা। কালীগঞ্জের আলু ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, এখন গরুগাড়ি পাওয়া যায় না। এছাড়া চরে রিকশা-ভ্যানও চলে না। তাই ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে এসেছি।  

আব্দুল আউয়াল, কোরবান আলী বলেন, অভাবি এলাকা হিসেবে পরিচিত গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে ব্যাপক আলু চাষ হওয়ায় বছর তিনেক ধরে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন দেখা যায়। মহিপুর এলাকার চাষি তারেক মিয়া ঘোড়ার গাড়িতে আলু নিয়ে যাচ্ছিলেন নদীর ওপারে।

তিনি জানান, নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় খুব ঝামেলা, তাই ঘোড়ার গাড়িই ভরসা।  

ঘোড়ার গাড়ির চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাড়ি তৈরির খরচ ও ঘোড়ার দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে। গাড়ি চালানোর উপযোগি একটি ঘোড়া ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় বলে তারা জানান।  


মন্তব্য