kalerkantho


মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর ঘটনা ১ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৭ ২০:০৮



মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর ঘটনা ১ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর ঘটনা স্থানীয় সালিশকারীরা  ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত বুধবার কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  
এলাকাবাসী ও ঘটনার শিকার ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বানিয়ারী গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী ঘটনার দিন সকালে একটি এনজিও থেকে তার মায়ের নামে উত্তোলনকৃত ঋনের টাকার কিস্তি দিতে পাশের বাড়ি যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় প্রভাবশালী  রওশন চৌধুরীর ছেলে রুমান চৌধুরী (১৭), পান্নু চৌধুরীর ছেলে লেলিন চৌধুরী (১৯) ও কাইয়ুম চৌধুরীর ছেলে সাগর চৌধুরী (১৮) ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। শ্লীলতাহানী শিকার ওই ছাত্রী উপজেলার কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। এ ঘটনা জানাজানি হলে  ঘটনাটি নিয়ে বুধবার দিবাগত রাতে পার্শ্ববর্তী কান্দি গ্রামের রুস্তুম মাস্টারের বাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহ্ শেখ, এয়াকুব আলী শেখ ও স্থানীয় সালিশকারী ইউনুচ ব্যাপারী, রিয়াজ চৌধুরী, গাউচ চৌধুরীর সমন্বয়ে এক সালিশ বৈঠক বসে। এই সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত ওই তিন বখাটের ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এতে  স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বানিয়ারী গ্রামের বেশ কয়েকজন  বলেন, তিন বখাটে যে কাজটি করেছে তা সালিশ অযোগ্য অপরাধ। এদের আইনের হাতে সোপর্দ করা উচিত ছিল। এই জঘন্য অপরাধ যদি টাকা জরিমানার মধ্যমে মিটমাট করা হয় তাহলে সমাজে এই ধরনের অপরাধ আরো বেড়ে যাবে।
এ ব্যাপারে সালিশকারী রিয়াজ চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি সালিশ বৈঠক শেষ হওয়ার আগে  বাড়ি চলে আসি। অপর সালিশদাররা কি রায় দিয়েছে আমার জানা নেই।
সালিশে উপস্থিত কুশলা ইউনিয়নের মেম্বার ইয়াকুর আলি ও হাবিবুল্লাহ মুঠোফোনে বলেন,  এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে জরিমানা করা সালিশদারদের এখতিয়ারের বাইরে। তারপরও  শুধুমাত্র দরিদ্র ঘরের মেয়ের কলংক বাইরে জানাজানি হলে তাকে বাইরে আর বিয়ে দেয়া যাবেনা। তাই  মেয়েটির বিয়ে দেবার জন্য এবং যতটা গোপনে রাখা যায় তার ব্যবস্থার জন্য এই পথ বেছে নিয়েছি।

ছাত্রীর মা বলেন, আমার দুই মেয়েকে নিয়ে  এখন আতঙ্কে রয়েছি। সিন্ধান্ত নিয়েছি আমার বড় মেয়েকে আর লেখাপড়ার জন্য মাদ্রাসায় পাঠাবো না। বখাটেরা আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তারা যেন অন্য কোনও মেয়ের সাথে এ ধরনের ঘটনা না ঘটায় আমি সমাজপতি এবং সরকারের কাছে এই দাবি জানাই।
এ ব্যপারে কোটালীপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ফারুক জানিয়েছেন,  বিষয়টি আমি শুনেছি। সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ওই ছাত্রীর পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।   মামলা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


মন্তব্য