kalerkantho


শেরপুরে বিল্লাল হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

শেরপুর প্রতিনিধি    

৯ মার্চ, ২০১৭ ১৫:০৩



শেরপুরে বিল্লাল হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

শেরপুরে কিশোর বিল্লাল হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দিন এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার শেরিঘাট এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে ছানুয়ার হোসেন ওরফে মান্নান, একই এলাকার শাহাদত হোসেনের ছেলে বিশু এবং  শ্রীবরদী উপজেলার গিলাগাছা গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে নূর হোসেন। দণ্ডিতদের মধ্যে আসামি ছানোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন ঠাণ্ডু জানান, শেরপুর শহরের নবীনগর এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে কিশোর বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মান্নান (১৫), বিশু (১৪) এবং নূর হোসেনের (১৬) একটি চুরির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে ২০১১ সালের ২৩ মে রাতে শহরের শেরিঘাট ব্রিজের নিচে ডেকে নিয়ে তারা বিল্লালকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর হাত-পা বেঁধে গুম করার উদ্দেশ্যে একটি চোরাই ট্র্যাংকের ভেতর লাশ ঢুকিয়ে ট্র্যাংকটি নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরদিন সকালে স্থানীয় ভাটারাঘাট ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়ে ট্র্যাংকটি।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। একইদিন ওই ঘটনায় সদর থানার তৎকালীন এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তকালে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

একই বছরের ৩১ আগস্ট ওই তিনজনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদী, আসামির জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসকসহ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দোহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলো।

মামলাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন ঠাণ্ডু ও আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

 


মন্তব্য