kalerkantho


দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন : দুই ইউপি সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী    

৯ মার্চ, ২০১৭ ১২:৫৭



দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে বেঁধে নির্যাতন : দুই ইউপি সদস্য আটক

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানোর ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডলসহ দুই ইউপি সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

এরা হলেন, ঝালুকা ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব মীর্জা। তবে পলাতক রয়েছেন  চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল।

দুর্গাপুর থানা সূত্র জানায়, ছাগল চুরির অভিযোগে গাছের সঙ্গে দুই কিশোরকে ধরে বেঁধে মারপিটের ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়। নির্যাতনের শিকার উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের কিশোর জার্জিস হোসেনের বাবা জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় ঝালুকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব এবং হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব মীর্জাকে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দুয়া গ্রামের ক্যাচিনি ফকিরের ছেলে রেজাউলের বাড়ি থেকে ছাগল চুরি হয়। উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন নামের দুই কিশোর ওই ছাগলটি নিয়ে  মতিহারের হরিয়ান বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বাজারের নৈশ প্রহরীরা তাদের আটক করেন।

পরে ওই দুই কিশোরের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে আন্দুয়া গ্রামে খবর দিলে পরের দিন ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টার দিকে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে আন্দুয়া গ্রামে যান।

এরপর সকাল ১১টার দিকে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশেই গ্রাম্য সালিস বসানো হয়। সালিসে দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এ সময় কথিত ওই গ্রাম্য সালিসি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব এবং হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিব। পরে ওই দুই কিশোরকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ওই দুই কিশোরকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

নির্যাতিত ওই দুই কিশোরের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, অল্প বয়সী ওই কিশোররা ভুল করতেই পারে। তাই বলে তাদের গাছে বেঁধে নির্মমভাবে পেটানো  যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধ নয়। এ ব্যাপারে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব জানান, ছাগল চুরির কথা প্রথমে তারা স্বীকার না করায় তাদের গাছে বেঁধে রাখা হয়। তবে তাদের নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। জরিমানার ১৬ হাজার টাকা কার কাছে রয়েছে?- জানতে চাইলে তিনি বলেন, "দুই হাজার ৫০০ টাকা ছাগল মালিক রেজাউলকে দেওয়া হয়েছে। আর বাকি টাকার মধ্যে কিছু টাকা ওই দুই কিশোরকে ধরতে সহযোগিতা করেছিলেন যারা তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আর কিছু টাকা গ্রামের মসজিদের উন্নয়নকল্পে দান করা হয়েছে। তবে কথিত ওই গ্রাম্য সালিসে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল কোন‌ও কথা বলতে রাজি হননি। দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম জানান, ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


মন্তব্য