kalerkantho


হাতের কাজ করে ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শতাধিক নারী স্বাবলম্বী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ১৬:৫২



হাতের কাজ করে ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ শতাধিক নারী স্বাবলম্বী

সুঁই সুতার কাজ অনেক নারীর জন্য সখের কাজ। ফলে এমন নারী পাওয়া যাবে না যিনি সুঁই সুতার কাজ জানেন না। তবে শখের বশবর্তী হয়ে সুঁই সুতার কাজ শিখলেও আকম্মিক স্বামীর মৃত্যুর পর থেমে যাওয়া নারীর কর্মজীবনের চাকা সচল হয় ওই সুঁই আর সুতা দিয়েই । তারা পেয়ে যান নুতন করে বাঁচার স্বপ্ন। এমনি ভাবে সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুই সুতার কাজ করে  জীবনে স্বচ্ছলতা এনেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ৭ শতাধিক নারী ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সিরহাট, শিবগঞ্জ, চিলারং ও শাহপাড়াসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক নারী এখন সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সুঁচের ফোঁড়ায় ফোঁড়ায় নিপুণ হাতে তৈরি করে চলেছেন নকশা করা শাড়ি ও ওড়না।

শুধু তাই নয়, অভাবী সংসারে জন্ম নেয়া অনেক শিক্ষার্থী অর্থাভাবে যাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে তারাও লেখাপড়ার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে এই কাজের সাথে। এতে স্কুল ও কলেজের অনেক ছাত্রী এই কুটির শিল্পকাজ করে নিজের খেলাপড়ার খরচ যোগাচ্ছে। আবার স্বামীহারা অনেক নারীর থেমে যাওয়া সংসারের চাকা ঘোরাতে তারাও নেমে পড়েছেন এ কাজে। এতে অনেকের সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে, দূর হয়েছে অনটন।

তাদের দেখে প্রতিদিনই বাড়ছে এই ধরণের কর্মীর সংখ্যা। তবে তাদের একটি দাবি পরিশ্রম অনুযায়ী তারা  মজুরী পাচ্ছেন না ।  

মুন্সিরহাট এলাকার সুই সুতার কর্মী-গৃহবধূ জোছনা বেগম জানান, অভাবের সংসারে  দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মাত্র ৫দিনে একটি শাড়ির কাজ শেষ করে ২/৩শ’ টাকা আয় করেন তিনি। কয়েক বছর পূর্বে সে পারিশ্রমিক উপযুক্ত থাকলেও বর্তমানে একাজ অনুযায়ী মজুরী অনেক কম।  

দরিদ্র এইসব নারীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তামান্না এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী ঢাকার যুবক সোহেল খান। তিনি শাড়ীতে নকশার সিল ও স্টিকার বসিয়ে পাঠিয়ে দেন ঠাকুরগাঁওয়ের ওই নারী কর্মীদের কাছে। তারা সেই শাড়ী সংগ্রহ করে নিপুণ হাতে জড়ি ও পুথি বসানোর কাজ করে। এই নারী কর্মীদের কাজ করা শাড়ী ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় পাঠাতে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ভারতীয় শাড়ী হিসেবে গন্য করে পথিমধ্যে আটক করে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা।  

এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোর্শেদ আলী খান জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা এক সময় সখের বসে সুই সুতার কাজ করতো। এই কাজেই তাদের এখন স্বাচ্ছন্দের পথে নিয়ে চলেছে। জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে বিভিন্ন হাতের কাজে মহিলাদের সাবাবলম্বি করতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। মহিলারা প্রশিক্ষণ শেষে নিজেরাই নিজেদের বাসায় এসব হাতের কাজ করে লাভবান হচ্ছেন। সরকারি ভাবে ওইসব নারীদের আরো সহযোগিতা করতে তিনি চেষ্টা করবেন ।

সরকারের পাশাপাশি এধরণের শিল্পে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে পাশাপাশি দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে নারীরা।  


মন্তব্য