kalerkantho


লাটিম নিতে গিয়েই লাশ হলো শিশু শুভ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ২২:২৬



লাটিম নিতে গিয়েই লাশ হলো শিশু শুভ

লাটিম নিতে গিয়েই লাশ হতে হলো শিশু তাওহীদ শামিম শুভকে। রিপন (১১) নামের প্রতিবেশী খেলার সহপাঠীর বাড়িতে লাটিম নিতে গিয়ে শুভ’কে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে হত্যা করে রিপনের বাবা ভ্যানচালক রেজাউল করিম ফকির (৩৬)।

ওই সময় রিপন বাড়িতে ছিল না। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে শুভ’কে হত্যার পর টেলিভিশনের কার্টুনে রাখা হয়। পরে ওইদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ির অদুরে খড়ের গাদার পাশে রেখে দেয় খুনি রেজাউল। সোমবার বিকেলে জয়পুরহাট অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ ইকবাল বাহার এর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেকে জড়িয়ে স্বেচ্ছায় এই জবানবন্দী দেয় আসামী রেজাউল।  

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, কালাই পৌর এলাকার মুন্সীপাড়া মহল্লার ভ্যানচালক রেজাউল করিম ফকির প্রতিবেশি কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর তোতার শিশুপুত্র তাওহীদ শামিম শুভ (৯) কে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে রেজাউল নিজেকে ঋণগ্রস্থ দাবি করে জানায়, ঋণের কারণে দেড়মাস আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে না পারায় স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ ছিল রেজাউলের ওপর। এক সপ্তাহের মধ্যে দশ হাজার টাকা পরিশোধ করারও কথা ছিল রেজাউলের। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে ফন্দি আঁটে প্রতিবেশী তোতার ছেলেকে অপহরণ করার।

এ জন্য সে গত শুক্রবার সকালে তোতার উদ্দেশ্যে একটি চিঠিও লিখে। যেখানে অপহরণের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। পৌঁছানোর আগে চিঠিটি ঘরের একটি টেবিলে রেখে ঘুমিয়ে পড়ে রেজাউল। ওইদিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে শিশু শুভ রেজাউলের ঘরে যায় তার ছেলে রিপনের লাটিম নিতে। বাড়িতে তখন রেজাউল ছাড়া কেউ ছিল না। রেজাউল ঘুম থেকে জেগে শুভকে দেখে চমকে ওঠে। তার ধারণা হয় বাবাকে দেওয়া হুমকির ওই চিঠিটি হয়তো শুভ পড়ে ফেলেছে।

বিষয়টি জানাজানির ভয়ে রেজাউল পরিকল্পনা নেয় শুভকে হত্যা করার। রেজাউল তখন শুভকে জানায় তার খাটের নীচে একটি বাক্সের ভেতর লাটিম আছে। এ সময় শুভ খাটের নীচে থেকেই লাটিম খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি জানানো মাত্র রেজাউল তার গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শুভকে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ ঘরের ভেতর টেলিভিশনের কার্টুনে রেখে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে সে বেড়িয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কালাই উপজেলার বাখড়া এলাকা থেকে মোবাইল ফোনে রেজাউল নিহত শুভ’র বড় চাচীর নম্বরে অপহরণ করার বিষয়টি জানান এবং তার বাবাকে খুঁজতে নিষেধ করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই ফোন নম্বরে শুভ’র বাবা তোতা ফোন করলে রেজাউল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রাত ৮টার দিকে যোগাযোগ করার কথা জানিয়ে ফোন বন্ধ রাখে। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে রেজাউল বাড়ির উত্তর পাশে খড়ের গাদায় গোপনে রেখে আসে। শনিবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের পর শিশু শুভ হত্যার বিষয়টি জানাজানি হয়। ওই ঘটনার পর রেজাউল নিজেই শিশু শুভকে গোসল করানো ও কবরে লাশ দাফন সহ জানাযায় অংশ নেওয়া ছাড়াও পরিবারের সাথেই সার্বক্ষণিক সময় কাটায়।  

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ এর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করলে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কালাইয়ের মুন্সীপাড়া মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয় রেজাউল। পুলিশের কাছে সে ওই রাতেই শুভ হত্যার দায় স্বীকার করে। আজ সোমবার বিকেলে রেজাউল শুভ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেয়।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান,আদালতে দোষ স্বীকার করে নিজেকে জড়িয়ে দেওয়া জবানবন্দীর পর আদালতের নির্দেশে আসামী রেজাউলকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

প্রসঙ্গত: গত শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে খেলতে গিয়ে শিশু তাওহীদ শামিম শুভ নিখোঁজ হয়। শনিবার সকালে বাড়ির অদুরে একটি খড়ের গাদার পাশ থেকে শুভ’র মৃতদেহ উদ্ধার করে কালাই থানা পুলিশ।


মন্তব্য