kalerkantho


মেহেরপুরে দুই আ.লীগ কর্মীকে গলাকেটে হত্যা

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ২০:৪৭



মেহেরপুরে দুই আ.লীগ কর্মীকে গলাকেটে হত্যা

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাঁঠালপোতা গ্রামে আব্দুল মজিদ (৬০) ও আশাদুল ইসলাম (৫০) নামের দুই আ.লীগ কর্মীকে গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।  

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার কাঁঠালপোতা গ্রামের মদনাডাঙ্গা মাঠ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে আ.লীগের দুটি গ্রুপের বিবাদমাণ দ্বন্দ্বের জের ধরেও এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পিরোজপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মামলত হোসেনকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে বলে তার স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি।  

নিহত আব্দুল মজিদ এলাকায় কাঠের ব্যবসা করতেন এবং আশাদুল ইসলাম দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তাদের দুজনের বাড়ি কাঠালপোতা গ্রামের মালিথাপাড়ায়। তারা দুজনই আ.লীগের একটি পক্ষের সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।  

স্থানীয়রা জানান, গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মজনুর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আব্দুল মজিদ ও আশাদুল ইসলাম। এ সময় অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে আব্দুল মজিদ ও আশাদুল ইসলামকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে আব্দুল মজিদের মোবাইল ফোন থেকে তার ছেলে আব্বাস আলীর মোবাইলে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ১০ লাখ টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়।

না হলে তাদের হত্যা করার হুমকি দেওয় হয়। পরে আজ সোমবার সকাল ১১ টার দিকে পার্শ্ববর্তী কাঁঠালপোতা গ্রামের মদনাডাঙগা মাঠে তাদের দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠায়।  

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী সহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  

তবে অপর এক সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য আরজান আলীর সাথে সাবেক ইউপি সদস্য মামলত হোসেনের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে দির্ঘদিন ধরে। আব্দুল মজিদ ও আশাদুল ইসলাম আরজান আলীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেছিল গত ইউপি নির্বাচনে। সে ধরণের রাজনৈতিক কোন দ্বন্দ্ব থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা তা নিয়েও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।  

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ কালের কন্ঠকে বলেন, এ ধরণের সাধারণ প্রকৃতির দুজন মানুষ ১০ লাখ টাকা মুক্তিপনের কারণে খুন হলেন বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।


মন্তব্য