kalerkantho


পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ডুবে আম ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ১৭:০০



পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ডুবে আম ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রসিকপুরে পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক আম ব্যবসায়ী মারা গেছেন। গতকাল রবিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে ময়নাতদন্তর জন্য লাশটি মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে নিহতের স্বজনদের তোপের মুখে পড়ে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

নিহত আলমগীর হোসেনের বাড়ি ভোলার ইলিশ জংশন এলাকায়। তিনি দুই সপ্তাহ আগে চলতি মৌসুমে আমের ব্যবসা করার জন্য উপজেলার রসিকপুর গ্রামের মেয়ের জামাই আমিরুল ইসলাম ওরফে ফুলবাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন।  

স্থানীয়রা জানান, আলমগীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন লোক রসিকপুর গ্রামের ভৈরব নদের কিনারে মোতালেবের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। ঘটনার সময় মুজিবনগর থানার এসআই আবু তাহেরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে জুয়াড়ি ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় আলমগীর হোসেন, রেজাউল হোসেন ওরফে খোকন ও জাহান আলী এই তিনজন পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভৈরব নদীতে ঝাঁপ দেন। আলমগীর হোসেন সাঁতার না জানার কারণে নদীতে ডুবে যান তিনি। খোকন ও জাহান সাঁতরিয়ে নদের ওপারে উঠে পালাতে গেলে পুলিশ ওদিক থেকেও ধাওয়া দিলে তারা নদীর মাঝখানে ভাসমান অবস্থায় অবস্থান করে।

কিছুক্ষণ পর খোকন ও জাহান এপারে উঠলে পুলিশ তাদের আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। তবে আজ সকালে আলমগীরের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মেহেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আহসান হাবিব, মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ সময় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে নিহতের মেয়ে জামাইসহ স্বজনদের তোপের মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সহকারী পুলিশ সুপার তাদের বিষয়টি পরিস্কার করলে তারা লাশটি মর্গে পাঠানোর অনুমতি দেয়।

আলমগীর হোসেনের মেয়ের শ্বশুর আনিসুর রহমান বলেন, আমার বেয়াইয়ের কোনো বাজে অভ্যাস নেই। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর ধরে আমাদের এখানে আমের সিজিনে ব্যবসা করতে আসেন। সেই থেকে পরিচয়ের মাধ্যমে চার বছর আগে তার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিই। এবারও সপ্তাহ দুয়েক আগে তিনি এলাকায় আমের ব্যবসা করার জন্য আমার বাড়িতে এসেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গতকাল রাতে চায়ের দোকানে গিয়ে পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। পরে এলাকার মানুষজনের হৈ চৈ শব্দে বুঝতে পারি তার বেয়াই নদীর পানিতে ডুবে গেছেন। রাতে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে সকালে গ্রামের সুইচ গেট এলাকায় তার লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

 


মন্তব্য