kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধের সেই স্যান্ড মডেল এখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০৪:১৯



মুক্তিযুদ্ধের সেই স্যান্ড মডেল এখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে

সমুদ্রপথে আসা ট্যাঙ্ক, মাইনের মতো আধুনিক সব সমরাস্ত্র ঢুকবে বাংলাদেশে। ফেনীতে যুদ্ধরত অকুতোভয় সেনাদলের উপর দায়িত্ব পড়লো সমরাস্ত্রবাহী গাড়িগুলোর পথ রুখে দিতে হবে।

শুরু হল প্রচণ্ড যুদ্ধ। পাকিস্তানি বাহিনী পেরে না উঠে যুদ্ধ বিমান থেকে ছুড়ল বোমা। তাতেও কি দমে যায় সেনারা! রণকৌশল বদলে নিয়ে তারা ভূপাতিত করলো সেই যুদ্ধ বিমান। এ সময় যুদ্ধে প্রাণ যায় অনেক মুক্তি সেনার। এরপরে ১০ নভেম্বর আসে কাঙ্ক্ষিত বিজয়। পাকিস্তানি বাহিনীর এক অফিসারসহ ৭২ জন সৈন্য আত্মসমর্পণ  করে।

মুক্তিযুদ্ধে ফেনীর বিলোনিয়ায় সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধের স্যান্ড মডেলটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদান করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্টের অকুতোভয় মুক্তি সেনাদের নানা অভিযানের সাক্ষ্য স্যান্ড মডেলটি ঠাঁই পেল নব-নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনীতে। গতকাল রবিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের এই নিদর্শনটি তুলে দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের  ট্রাস্টিদের হাতে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক চিহ্নটি গ্রহণ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিলোনিয়া যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বীরবিক্রম কর্নেল (অবঃ) জাফর ইমাম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক এবং সারওয়ার আলী।

২০১৬ সালের ২৫ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বিলোনিয়া যুদ্ধের মডেল তৈরির জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে সহযোগিতা চায়। এই মডেল তৈরি করার জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বিভিন্ন বই। পরে সেনাবাহিনী ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর এই মডেল তৈরির কাজ শেষ করে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বিলোনিয়া যুদ্ধের এই মডেলটি দেখে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে জানতে পারবে। পৃথিবীর ইতিহাসে অল্প কয়েকটি দেশ আছে যে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। সে দিক থেকে আমরা গর্বিত জাতি।

মডেল হস্তান্তরের পর সেনা প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিলোনিয়া যুদ্ধের সাফল্য গাঁথা একটি অসামান্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর রণকৌশল নির্ধারণেও এই যুদ্ধের ইতিহাস অবশ্য পাঠ্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিলোনিয়া যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বীরবিক্রম কর্নেল (অবঃ) জাফর ইমাম বিলোনিয়া যুদ্ধের গল্প বলেন। এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্টের সদস্যরা। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা। তিনি বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে বিলোনিয়া যুদ্ধটি বেশ কঠিন এক যুদ্ধ ছিল। রণকৌশলের দিক থেকে এই যুদ্ধটি ছিল বেশ দুরুহ। আর পাকিস্তানি সেনারা কিন্তু মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। তারা করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে।


মন্তব্য