kalerkantho


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার কর্মসূচি শুরু

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ১৯:৫৩



নীলফামারীর কিশোরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার কর্মসূচি শুরু

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা ভিক্ষুকমুক্তে সফলতার পর এবার মাদকমুক্ত উপজেলা গড়ার কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। আজ  
রবিবার বিকেল ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের পক্ষে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান।

জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশীদ। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার  (সৈয়দপুর সার্কেল) মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম, বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, শিশু নিকেতন স্কুল এ- কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক।

এরপরে ‘মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়ি’-এ শ্লোগানে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদক বিরোধী প্রচারণার ব্যানার, ফেসটুন টানানো এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান জানান, রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। দ্রুত শতভাগ মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদক বিরোধী সভা, সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।  

এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জুলাই এই উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। এরপর এ পেশার সাথে জড়িত ৯৭৯ জনকে পূর্ণবাসিত করা হয়। তারা এখন বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মের সাথে জড়িত।

উপজেলা প্রশাস সূত্র মতে, সে সময়ে ৯৭৯ জন ভিক্ষুককে বাছাই করে তাদের পূর্ণবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদেরকে আনা হয় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে। ৬৯০ পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয় আশ্রায়ন-২ প্রকল্পে। তাদের মধ্যে ৯৫১ জনকে আনা হয়েছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায়। ওই প্রকল্পের আওতায় সুদবিহীন ঋণ প্রদান করে তাদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয় । তারা এখন অনেকেই গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী পালন করে আয় করছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ অন্যান্য আয়বর্ধক কাজে জড়িত হয়েছেন। সে আয় দিয়ে তারা শিখেছেন সঞ্চয়ী হতে। উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে তাদের সঞ্চয় এখন প্রায় দেড় কোটি টাকা। সফলতা এসেছে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণার।

 


মন্তব্য