kalerkantho


কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

কৌশলী প্রচারণায় প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৫ মার্চ, ২০১৭ ১৮:১৩



কৌশলী প্রচারণায় প্রার্থীরা

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু না হলেও বসে নেই প্রার্থীরা। স্ব-স্ব পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই কৌশলে গোপন প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি, নিচ্ছেন দোয়া আশির্বাদ ও সমর্থন। আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর প্রার্থীরা প্রতীক পাবেন ১৫ ও ১৬ মার্চ। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রচারণা চালাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থী নিচ্ছেন ভিন্ন কৌশল। উদ্দেশ্য একটাই- যেকোনো উপায়ে ভোটারদের কাছে যাওয়া। প্রতিশ্রুতি ফুলঝুড়ি পৌঁছে দেওয়া তাদের কানে।

সদ্য সাবেক হওয়া প্রতিনিধি প্রার্থীরা ভোটারদের সামনে আনছেন নিজেদের দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদাহরণ। আর নবাগত প্রার্থীরা দিচ্ছেন অধিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, সামনে আনছেন সাবেক প্রতিনিধিদের ব্যর্থতাগুলো। প্রার্থীদের মধ্যে চলছে ভোটারদের কাছে যাওয়ার অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, অনানুষ্ঠানিক ও কৌশলী এ প্রচারণায় বেশ তৎপর সদ্য সাবেক হওয়া মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। ৩ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই নেতা-কর্মীদের নিয়ে আঁটঘাট বেধে নেমে পড়েছেন তিনি। বাবার কবর জিয়ারত, নগরীর কয়েকটি মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। ইতোমধ্যেই সাক্কু নগরীর প্রায় ১০ থেকে ১৫টি ওয়ার্ডের ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সাত্তার খান কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের সাথে কুশল বিনিময় করেছেন তিনি। নিয়েছেন দোয়া ও আশির্বাদ। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই গোপন ও কৌশলী এসব প্রচারণার ছবি দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে পাতায়।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা কৌশলী এসব প্রচারণায় তৎপর না হলেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরাও তার সাথে দেখা করে দিকনির্দেশনা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দুই দিনব্যাপী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিনে আজ রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল এ তথ্য জানান।

জানা যায়, কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পাঁচজনের মধ্যে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তাঁরা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি মনোনীত প্রার্থী শিরিন আক্তার, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) অ্যাড. সোয়েবুর রহমান। আর বাতিল করা হয়েছে স্বতন্ত্র মেজর (অব.) মো. মামুনুর রশীদের মনোনয়নপত্র।

এ বিষয়ে কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, যাছাই-বাছাইয়ে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় মেজর (অব.) মো. মামুনুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি যে ৩০০ ভোটারের সাক্ষর জমা দিয়েছেন তার মধ্যে থেকে দৈবচয়ণ পদ্ধতিতে পাঁচজন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে তিনজনের সঠিক তথ্য পাওয়া গেছে। দুইজনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া তিনি তিনজনের তালিকার মধ্যে একটি ঘর খালি রেখেছেন।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থী মো. মামুনুর রশীদ জানান, এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করবেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ মুহূর্তে যখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় তখন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তালিকা নিয়ে আসেন। এ সময় রিটার্নিং অফিসারের হল কক্ষে শুরু হয় গুঞ্জন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, যেহেতু প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কাজ শেষে হয়ে গেছে, সেহেতু এটি এখন বিবেচ্য বিষয় নয়। পুলিশের ওই তালিকায় বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে ১০টি মামলার কথা বলা হয় এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমার বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকার কথা বলা হয়।

পরে এ প্রতিবেদকদের সাথে আলাপকালে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, আমি নিজেই দশটি মামলার তথ্য জমা দিয়েছি। এর মধ্যে ৮টি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে আর ২টি মামলা চলমান। একজন রাজনীতিবিদের বহু রকমের মামলা থাকতে পারে। এ সব মামলার মধ্যে ৯১, ৯৬ সালের মামলাও আছে। বিভিন্ন সময় আন্দোলনের কারণে আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অপরদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই বলে এ প্রতিবেদককে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা। কেউ এখানে দ্বিমত হতে পারবে না। সবাই এখানে কাজ করবে। নৌকার বাইরে কেউ যেতে পারবে না। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

 

 


মন্তব্য