kalerkantho


কলাপাড়ায় পাগলা মহিষের হামলায় দুই কৃষক আহত, নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ১৪:৪৫



কলাপাড়ায় পাগলা মহিষের হামলায় দুই কৃষক আহত, নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি

ফাইল ছবি

পাগলা মহিষ হামলা চালিয়ে আজাহার বিশ্বাস (৭০) ও মিরাজ প্যাদা (২৪) নামের দুই কৃষককে আহত করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে।

আহতদের মধ্যে আজাহার বিশ্বাসকে রাতে কলাপাড়া হাসপাতলে এবং মিরাজ প্যাদাকে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহিষটি ধানখালী গ্রামের ছালাম জমাদ্দারের। মহিষটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই গ্রামের অনুপ গাজী তার ব্যক্তিগত (লাইসেন্স করা) বন্ধুক দিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আহত মহিষটিকে জাবাই করে গ্রামবাসীদের মাঝে বিতরণ করে মহিষের মালিক।

প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব গাজী জানায়, মহিষটি রক্ত দেখে রেগে যায়। এ কারণে মহিষটি দিগ্বিদিক ছুটে এবং মানুষকে গুঁতো দিয়ে আহত করে। মহিষটি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় অনুপগাজী তার বন্ধুক দিয়ে গুলি করে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহত আজাহার বিশ্বাস জানায়, ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে মেয়ে জামাই মো. জাকির হাওলাদারের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম। দুপুরের খাবার খেয়ে পাশ্বাবর্তী টিয়াখালী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে আসার পথে সন্ধ্যার দিকে রেগে যাওয়া মহিষটি তাকে এসে গুঁতো দেয়।

এতে মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত হয়। ধানখালী গ্রামের মিরাজ প্যাদাকেও আহত করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন।

মহিষের মালিক সালাম জমাদ্দার জানান, মহিষ রাখাল হারুন প্যাদা বাড়ির নিকটস্থ ছত্তার খানের বাড়ির কাছে মহিষকে পানি পান করাতে যায়। ওই সময় ছত্তার খানের বাড়িতে শনিবার দুপুরে একটি খাসি জবাই করে। রক্ত দেখে মহিষটি ক্ষেপে যায়। এরপর পাগলপ্রায় মাহিষটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুপ গাজী গুলি করে মহিষটিকে নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহিষটিকে জবাই করে সকলের মাঝে বিতরণ করা হয়। আহতদের চিকিৎসা খরচ আমিই বহন করছি।

ধানখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ গাজী জানায়, মহিষটি গুলি করে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। তানা হলে আরো মানুষ আহত এবং নিহত হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। এর পর মহিষটি জবাই করে মানুষের মাঝে গোশত বিতরণ করা হয়। এতে মহিষের মালিকের কোনো অভিযোগ নেই এবং তিনি আহত দুই ব্যক্তির চিকিৎসা খরচ বহন করছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি জি এম শাহনেওয়াজ জানান, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ আসেনি। আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


মন্তব্য