kalerkantho


মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিত আবুল কাশেম

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৯:২২



মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিত আবুল কাশেম

ঢাকায় পুলিশের হাতে আটক নব্যজএমবির আধ্যাধিক নেতা আবুল কাশেম এর বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার দুর্গম ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল উত্তর কোদালকাটি চরে। প্রথমে তিনি অষ্টমীচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর বাজারে পল্লী চিকিৎসক এবং হাফেজিয়া মাদ্রাসার হুজুর ছিলেন।  

গত ২০০৪ সালের প্রথম দিকে ওই হাফেজিয়া মাদ্রসায় শিক্ষার্থীদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হতো ওই দুর্গম চরে। সারা রাত ধরে চলত প্রশিক্ষণ। এমন অভিযোগ করেছেন চরের বাসিন্দারা।

আজ শনিবার সরেজমিনে চরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ওইসব তথ্য। ডাটিয়ার চরের মজিবুর রহমান, সোলেমান মাস্টার, করিম মণ্ডল ও ইদ্রিস আলী জানান, আবুল কাশেম ডাটিয়ারচর হাফেজিয়া মাদ্রাসাকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ হিসেবে ব্যবহার করত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিচিত মধ্য বয়সী ও কিশোর যুবকদের যাতায়াত ছিল। রাতে মাদ্রসায় আলোচনায় বসত। তাদের সবার খাবার রান্না হতো কাশেম হুজুরের বাড়িতে।

তবে বাইরের কোনো পুরুষ মহিলা তার বাড়িতে ঢুকতে পারত না। পরিবারের সবাই পর্দাশীল।

আবুল কাশেম রাজীবপুরের করাতিপাড়া ও জিয়ারার চরেও দুইশ পরিবারকে পর্দাশীল করে গড়ে তুলেছেন। প্রথমে হাফেজিয়া মাদ্রাসার হাফেজ বানানোর কথা বলে মাদ্রাসা চালু করত। এরপর সেখানে সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়ে সদস্য বের করত। এমন তথ্য দিয়েছেন এলাকার অনেক মানুষ।

রাজীবপুরের কোদালকাটি ইউনিয়নের উত্তর কোদালকাটি চরে আবুল কাশেম এর বাড়ি। বাড়িতে দুইটা দোচালা টিনের ঘর ছাড়া তেমন কিছুই নেই। তার ঘরে ৭ ছেলে ৩ মেয়ে রয়েছে। আবুল কাশেমের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, উনি (স্বামী) গত বছর ১৬ মে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি। জঙ্গি হামলার সঙ্গে আমার স্বামী জড়িত নাই। ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে অন্যায় ভাবে চক্রান্ত করে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

উত্তর কোদালকাটি ইউপি মেম্বার কামাল হোসেন জানান, আমরা তো জানি আবুল কাশেম জঙ্গি নেতা। সে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি হিসেবে গড়ে তোলে। একই ধরণের কথা জানান কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছক্কু।


মন্তব্য