kalerkantho


কুড়িগ্রামে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর বিক্রি করে টাকা আদায়

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগাম)   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৯:০৮



কুড়িগ্রামে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর বিক্রি করে টাকা আদায়

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় তিনটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের সুবিধা এবং বেশি নম্বর দেয়ার কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। এতে বিষয়ে একশ’ টাকা হারে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে অবৈধ ভাবে আদায় করা হয়েছে।

এ হিসেবে তিন পরীক্ষা কেন্দ্রে ২৪৭৮ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা নম্বর বিক্রির নামে প্রকাশ্যেই ওই টাকা আদায় করলেও স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। আজ শনিবার থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শৌলমারী এমআর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১১৫৫ জন, যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮৫০ ও সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৭৩জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আইটি (তথ্য প্রযুক্তি) বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা সব পরীক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে। এছাড়াও মানবিক বিভাগে কৃষি বিজ্ঞান ও শরীরচর্চা এবং বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে ব্যবহারিক রয়েছে।  

শৌলমারী এমআর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রতি বিষয়ের জন্য একশ টাকার এক টাকাও কমে নেয়নি স্যাররা। এজন্য ব্যবহারিক পরীক্ষায় পুরো নম্বর দেয়ার কথা বলেছে স্যাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘স্যাররা কইছে টাকা না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষা ফেল করিয়ে দিবে।

’ স্কুলের সহকারী একাধিক শিক্ষক জানান, পরীক্ষার্থীদের কাছ টাকা নিয়ে তাদের বই দেখে লেখার সুযোগ দেয় প্রধান শিক্ষকরা। কেননা ব্যবহারিক পরীক্ষায় সাধারণত কেন্দ্র পরিদর্শক বা ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিত থাকেন না। ফলে শিক্ষকরাও সুযোগ পায়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শৌলমারী এমআর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম লিচু বলেন, ‘কেন্দ্র চালাতে হলে নানান খরচ হয়। সে কারনে প্রতি বিষয়ে ৫০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এর বাইরে কোনো টাকা নেয়া হয় না। সকল স্কুলেই ওই টাকা আদায় করে থাকে। ’

ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের সুবিধা ফি আদায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে পরীক্ষার সময়ে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা হবে শিক্ষকরা নকলের সুবিধা দেয় কিনা।


মন্তব্য