kalerkantho


সাভার-আশুলিয়ায় ভুল চিকিৎসায় দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)    

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৬:১৩



সাভার-আশুলিয়ায় ভুল চিকিৎসায় দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও আশুলিয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় একজন নবজাতকসহ দুটি শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে আশুলিয়ার ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারটিতে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে মালিকপক্ষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ওয়াপদা রোড এলাকায় সাভার জেনারেল হসপিটাল ও রাতে আশুলিয়ার গাজীরচট শেরআলী মার্কেট এলাকায় আমির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়ার গাজীরচট শেরআলী মার্কেট এলাকায় বসবাসকারী কামাল মিয়ার স্ত্রী  শরিফা বেগমের অভিযোগ, গত কয়েক দিন আগে তাঁর দেড় বছরের শিশু শাহ আলীর ঠাণ্ডা লাগে। শুক্রবার সন্ধ্যার পর শিশুটি ঠাণ্ডার কারণে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে স্থানীয় গাজীরচট এলাকার আমির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে  রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বার রয়েছে। ওখানে শিশুটিকে নিয়ে গেলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক আমির মিয়া শিশুটিকে শ্বাসকষ্টের জন্য গ্যাস দেন। এর পরপরই শিশুটির শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যায় এবং প্রচণ্ড খিচুনি শুরু  হয়। পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামগড়া এলাকার নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ আজ শনিবার সকালে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক আমির মিয়া প্রতিষ্ঠানটিতে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির জানান, গাজীরচট এলাকার আমির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর সংবাদ শুনে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা শরিফা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। হাসপাতালের মালিক চিকিৎসক আমির হোসেন পলাতক থাকায় তাকে আটক করা যায়নি।

অপরদিকে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের ওয়াপদা রোড এলাকায় সাভার জেনারেল হাসপাতালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় একজন নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই নবজাতকের স্বজনরা জানান, কয়েকদিন আগে রাজবাড়ি জেলার মোহাম্মদ মন্নু মিয়ার স্ত্রী খোদেজা বেগম (২২) সাভারের আড়াপাড়া বালুরমাঠ এলাকায় বোন রেহেনা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় খোদেজার প্রসব বেদনা উঠলে একজন নারী দালালের মাধ্যমে খোদেজার বোনের স্বামী আলতাফ হোসেন তাঁকে সাভার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওইদিন গভীর রাতে এই হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে খোদেজা বেগম একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। শিশুটি জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকের ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা না দেওয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নবজাতকটি মারা যায়। ঘটনার পর নবজাতকের স্বজনরা হাসপাতালে আসতে থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীরা থাকায় তারা হামলা করতে বিরত থাকে।

ভুল চিকিৎসা বা অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই হাসপাতালের পরিচালক জয়নাল আবেদীন ও ম্যানেজার মজিবর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায়ই হাসপাতাল থেকে চলে গিয়ে গা ঢাকা দেন। নবজাতক শিশুটির মৃত্যুর খবর শুনে শিশুটির মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি। নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমজাদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, "সাভার জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি আমলে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনিসুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি চিকিৎসক ডা. ফারজানা মাকসুরা ও অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক ডা. নাজমুল হুদা মিঠু। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশু মারা যাওয়ার ব্যাপারে এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, "বিষয়টি তদন্তে লোক পাঠানো হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে। " তিনি বলেন, "অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির সনদ না থাকলে মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাভার-আশুলিয়ায় বৈধ সনদ ব্যতীত যে সব ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে শিগগির তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ  আদালতের মাধ্যমে একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। "  

 


মন্তব্য