kalerkantho


কালোজিরা চাষ, কম খরচে বেশি মুনাফা

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী, মাদারীপুর    

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৪:৩৯



কালোজিরা চাষ, কম খরচে বেশি মুনাফা

'কালোজিরা শুধু মসলা জাতীয় ফসল নয়- মৃত্যু ছাড়া সব রোগের মহৌষধ'- গ্রামে এমন কথার প্রচলন রয়েছে। এই মহৌষধ মাদারীপুর জেলায় চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাতগুণ বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।

এবার জেলার কালোজিরা চাষিদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। তাই অনেক কৃষক একে 'কালো সোনা' বলে অভিহিত করছেন।

কম খরচে বেশি মুনাফা লাভের প্রত্যাশায় আশাতীত হারে কালোজিরা চাষ করা হয়েছে। এতে কালোজিরা চাষে অপার সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ কৃষক ও চাষিরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, এ অঞ্চলের আবহাওয়া কালোজিরা চাষে খুবই উপযোগী। তাই আগামী দিনে কালোজিরা এই জেলায় 'কালো সোনা' নামে খ্যাতি লাভ করবে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।

মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মাদারীপুরের চার  উপজেলার ৫৯১ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিগত দিনে অল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক মুনাফা হওয়ায় জেলায় এবার তিন  হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে স্থানীয় উন্নত জাতের কালোজিরা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুর সদরে এক হাজার ৩০ হেক্টর, কালকিনিতে ৮৫ হেক্টর, রাজৈরে ৪৯৬ হেক্টর এবং শিবচরে ২২০০ হেক্টর।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন হাজার ২২০ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় সাতগুণ বেশি জমিতে কালোজিরা চাষ করা হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বর্তমান বাজার মূল্যে বিঘা প্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন কৃষকরা। কালোজিরা চাষ করে লাভবান হয়েছেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের এওজ গ্রামের যদুনাথ মণ্ডলের শিক্ষিত ছেলে তপন মণ্ডল।

তপন মণ্ডল বলেন, "আমি এ বছর এক ৫৪ শতাংশ জমিতে কালোজিরা  চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। যদি প্রাকৃতিক কোনও প্রকার সমস্যা দেখা না দেয় এবং মধ্যস্বত্তভোগী না থাকে, আর যদি বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়, তাহলে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হবে। গত বছর কালোজিরা চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। এবার আমার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে কালোজিরা চাষ করেছেন। অনেক কৃষক আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে সরকারিভাবে যদি সব ধরনের পরামর্শ, বীজ, সার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়, তাহলে অসহায় কৃষকরা আরও বেশি জমিতে কালোজিরা চাষ করতে আগ্রহী হবেন। "

একই ধরনের কথা বলেছেন ওই গ্রামের আজাহার মুন্সী। তিনি বলেন, "বর্তমানে বাজারে কালোজিরার যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এ কালোজিরা আমাদের কাছে 'কালো সোনা' হয়ে দেখা দেবে। " তাদের মতো একই গ্রামের রেজাউল, জিতেন হালদার, মিলন হালদার, মানিক হালদার, সুভাষ হালদারসহ শতাধিক কৃষক এ বছর কালোজিরা  চাষ করেছেন। তাদের দেখাদেখি কালোজিরা চাষে এলাকার অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আগামী বছর কালোজিরা চাষি হাজারে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় চাষিরা।

মাদারীপুর পেয়ারপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, "কম খরচে বেশি মুনাফা লাভের জন্য বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণে কৃষকদের মসলা জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়েছে বলেই এ বছর মাদারীপুরের কৃষকরা ব্যাপকহারে কালোজিরা চাষ করেছেন। এ ছাড়া মাদারীপুরের আবহাওয়া কালোজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আগামী দিনে এ কালোজিরা চাষে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখা যাচ্ছে। "

 


মন্তব্য