kalerkantho


ফি দিতে না পারায় দিনমজুর ছেলের স্কুলে ভর্তি বাতিল

জামালপুর প্রতিনিধি    

৪ মার্চ, ২০১৭ ১১:১২



ফি দিতে না পারায় দিনমজুর ছেলের স্কুলে ভর্তি বাতিল

পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় অনজু মিয়া নামের এক দিনমজুর ছেলের ভর্তি বাতিল করে শিশুটিকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সেরাতুল মনিরা।

অপরদিকে, আনজু মিয়া নামের ওই ছাত্রকে ভর্তি করানোর অপরাধে একই বিদ্যালয়ের প্রবীণ সহকারী শিক্ষককে শারীরিক নির্যাতন ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন একই প্রধান শিক্ষক।

এতে প্রায় এক মাস ধরে দিনমজুর ছেলে অনজু মিয়ার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক সেরাতুল মনিরার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শহিদুল্লাহসহ এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে আজ থেকে ছয় বছর আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সেরাতুল মনিরা। তার যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন। প্রধান শিক্ষক সেরাতুল মনিরাকে পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র অসহায় দিনমজুরের ছেলে অনজু মিয়ার ভর্তি বাতিল করে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অনজু মিয়ার দিনমজুর বাবা কাসিদ আলী উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগে আরও জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সেরাতুল মনিরা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে কোনও প্রকার মাসিক সভা না করেই কর্তৃপক্ষের কাছে ভুয়া মাসিক প্রতিবেন দাখিল করেন। তিনি গত ডিসেম্বর মাসে তিন দিনের ছুটি নিয়ে ১৮ দিন অনুপস্থিত থেকেও ভুয়া মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এ ছাড়া  প্রধান শিক্ষক সেরাতুল মনিরা গত অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের স্লিপের ৩০ হাজার টাকা, প্রাক-প্রাথমিকের তিন বছরের ১৫ হাজার টাকা এবং শৌচাগার মেরামতের ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ এলাকার ৮০ জন ব্যক্তি ওই প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবিতে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মমর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, "প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে আনজু মিয়াকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সামনেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রধান শিক্ষক আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। পরে প্রধান শিক্ষক ভর্তি বাতিল করে অনজু মিয়াকে বিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। "

শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেরাতুল মনিরা বলেন, ''বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ এবং ছাত্র ভর্তি বাতিলের ব্যাপারে এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়। এলাকার কিছু মানুষ আমাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করতে কিছু শিক্ষকের প্ররোচনায় কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছেন। ''

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন জানান, শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নিতির একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 


মন্তব্য