kalerkantho


প্রতিবাদ সভা, কুশপুত্তলিকা দাহ

জয়পুরহাটে বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি    

৩ মার্চ, ২০১৭ ২১:৩৩



জয়পুরহাটে বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে জেলার কালাই উপজেলার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন কমিটি বাতিল না করলে আন্দোলনের হুমকি দেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিল করে দলের আস্থাভাজন ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্যদের নিয়ে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করতে হবে।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সম্মেলনের দীর্ঘদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসম্পাদক তাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি পদে মোজাহার আলী প্রধানকে পুনরায় সভাপতি এবং নাফিজুর রহমান পলাশকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিকভাবে জেলা কমিটি ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে জেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ  প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে কালাই উপজেলা চত্বরে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে নতুন কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় জেলা বিএনপির নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে। সেখানে প্রতিবাদ সভা করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদ্য বিলপ্ত কমিটির সহসভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার, সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম রাজু, কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল হক প্রমুখ।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সদ্য বিলপ্ত কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জয়পুরহাট জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, "জেলা বিএনপির নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাফিজুর রহমান পলাশের দলের নেতাকর্মীদের কাছে কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা তাঁকে চেনেন না।

তিনি দলে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তাঁকে দিয়ে দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম করানো সম্ভব নয়। তাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। "

জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, "কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আংশিকভাবে জেলা কমিটি ঘোষণা করে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন সেখানে তাঁরা শুধু সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক নাফিজুর রহমান পলাশের নাম জানতে পেরেছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাফিজুর রহমানকে দলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। নাফিজুর রহমান পলাশ ২০০৮ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সংস্কারপন্থী হয়ে দল ভাঙার চেষ্টা করলে জয়পুরহাট জেলা বিএনপি তাঁকেসহ জেলা কমিটির আটজনকে বহিষ্কার করেন। তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে দলের লড়াই সংগ্রামে কোনও ভূমিকাই রাখেননি। তাঁকে সম্পাদক হিসেবে বিএপির নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফাও দাবি করেন নতুন সাধারণ সম্পাদক নাফিজুর রহমানকে নেতা হিসেবে জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা মেনে নেবেন না।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সাবেক ও সদ্যঘোষিত নতুন কমিটির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান বলেন, "কেন্দ্রীয় কমিটি যেখানে সিন্ধান্ত নিয়ে নাফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন। আমি মনে করি, নতুন কমিটি দলের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জেলায় বিএনপিকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দাঁড় করাতে পারব। " নতুন সাধারণ সম্পাদক নাফিজুর রহামন পলাশ জানান, তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি কখনও দলের বিরুদ্ধে কোনও কাজ করেননি বা সংস্কারপন্থীও ছিলেন না। যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে দলকে আরো গতিশীল করবেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এ কমিটির সঙ্গে রয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

 


মন্তব্য