kalerkantho


অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

মহেশখালীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

৩ মার্চ, ২০১৭ ১৯:২০



মহেশখালীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিহত

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের গহীন পাহাড়ে 'কুদাইল্যা বাহিনী' নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের আস্তানায় পুলিশের সঙ্গে বাহিনী সদস্যদের মধ্যে  কথিত বন্দুকযুদ্ধে খুইল্যা মিয়া (৫০) নামের ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিহত হয়েছে। আজ  শুক্রবার সকালে মহেশখালী দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খুইল্যা মিয়া অস্ত্র মামলায় ৩০ বছরের পলাতক আসামি ছিলেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মহেশখালী দ্বীপের অস্ত্র তৈরির কারিগর হিসেবেও তালিকাভুক্ত ছিলেন তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন আজ শুক্রবার মহেশখালী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুলিশ সন্ত্রাসী বাহিনীর আস্তানা থেকে ১৩টি অস্ত্র ও ৩২ রাউন্ড কার্তুজ এবং নিহতের পকেট থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধের' সময় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি জানান, মহেশখালী দ্বীপে গত ১০ দিনের অভিযানে প্রায় ১৫ জন সন্ত্রাসী ৫০টির অধিক বন্দুকসহ ৩০০ রাউন্ড গুলি, বিপুল সংখ্যক ইয়াবা এবং প্রায় ৩০ হাজার লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক কেরুনতলী গহীন পাহাড়ে কুদাইল্যা বাহিনীর আস্তানায় একদল সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগর মিলে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র মেরামত ও অস্ত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবালের নেতৃত্বে সকাল ১০টায় জেলা ও মহেশখালী থাানর বিপুল সংখ্যাক পুলিশ ওই পাহাড়ি আস্তানা ঘিরে ফেলে। পুলিশ একপর্যায়ে পাহাড়ের চারদিক থেকে যৌথভাবে অভিযান চালায়। সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগররা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক গুলি করা হলে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি পথ দিয়ে গহীন পাহাড়ে চলে গেলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র মামলায় ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বড় মহেশখালীর মাঝেরপাড়া এলাকার আজম উল্লাহর ছেলে খুইল্যা মিয়াকে আটক করে। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে ১৩টি বন্দুক,৩২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। আহত খুইল্যা মিয়াকে মহেশখালী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হন। আহতরা হলেন এসআই হারুনর রশিদ, এএসআই সঞ্জীব দত্ত, এএসআই মেহেদী হাসান, এএসআই শহিদুল ইসলাম এবং  কনস্টেবল রুবেল শর্মা, মিঠুন ভৌমিক ও সবিনয় চাকমা। তাদেরকে মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে শতাধিক গুলি বিনিময় হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল জানান, নিহত খুইল্যা মিয়ার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় অস্ত্র ও হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি দ্বীপের বড় মহেশখালী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবদুল খালেকের ছোট ভাই। খুইল্যা মিয়ার পরিবারের সদস্যরা কোনও না কোনওভাবে অস্ত্র তৈরি ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান।

 


মন্তব্য