kalerkantho


বাড়ি ফিরবেন শিগগির

বখাটের হামলার শিকার মুন্নি সিআরপি মেলায়

তায়েফুর রহমান, সাভার (ঢাকা)    

৩ মার্চ, ২০১৭ ১৮:০২



বখাটের হামলার শিকার মুন্নি সিআরপি মেলায়

বখাটের চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে পঙ্গুত্ববরণকারী যে কিশোরীর সারা জীবন কাটবে হুইল চেয়ারে সেই মুন্নির মুখেও আজ শুক্রবার ছিল একরাশ হাসি। বিষন্নতা ঝেড়ে ফেলে সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) আয়োজিত উন্মুক্ত দিবসের মেলায় একটি হুইল চেয়ারে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল সিআরপিতে চিকিৎসাধীন মুন্নিকে। অন্য প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মুন্নি দিনটি প্রাণভরে উপভোগ করেছেন।

শুক্রবার সিআরপির উন্মুক্ত মেলায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মুন্নির। মুন্নি জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার উত্তর গড়িয়াইশের দিনমজুর জাফর আহম্মদ ও রিজিয়া বেগম দম্পতির মেয়ে ফারজানা আক্তার মুন্নি (১৭)। বছর দুয়েক আগে পড়তেন মিঠাইছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে। কিন্তু লেখাপড়া করার তেমন সুযোগ পায়নি মুন্নি। কারণ, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মোজাম্মেল নামের এক বখাটে তাকে বিরক্ত করতো। উপায়ান্তর না পেয়ে বাবা তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে নিকটাত্মীয় জয়নালের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে ঠিক হওয়ায় এবং প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় বখাটে যুবক মোজাম্মেল গত বছরের ২৯ জুন মুন্নিকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে।

তাৎক্ষণিক মুন্নিকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এরপর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মুন্নিকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে সাভারের সিআরপিতে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। গত বছরের ৪ নভেম্বর মুন্নি সিআরপিতে ভর্তি হন। মুন্নি বলেন, "যা হয়েছে মেনে নিয়েছি। এখন হুইল চেয়ারই আমার সারা জীবনের সঙ্গী। " মোবাইল ফোনে গেইম খেলে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সময় কাটান তিনি। মুন্নি বলেন, "বখাটে ও মাদকাসক্ত মোজাম্মেলকে পুলিশ গত ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করেছে। "

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র'র (সিআরপি) হেড অফ মেডিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড কনসালটেন্ট নিউরোসার্জন ডা. সাঈদ উদ্দিন হেলাল বলেন, "ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুন্নির মেরুদণ্ড দুই ভাগ হয়ে গেছে। বর্তমানে তার শরীরের ঘা শুকিয়েছে। তিনি এখন একাই হুইল চেয়ার নিয়ে ঘোরাফেরা করতে পারছেন। খুব শিগগির তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। "

সিআরপির মেডিক্যাল সার্ভিসেস উইং রেজিট্রার ডা. ইসরাত জাহান উর্মি বলেন, "চিরদিনের জন্য পঙ্গত্বের অভিশপ্ত জীবন বহন করতে হবে মুন্নিকে। আর কোনোদিন তিনি হাঁটতে পারবেন না। তার শরীরের ঘা শুকানোর পর সিআরপিতে একটি প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তাকে হুইল চেয়ারে বসার উপযুক্ত করা হয়েছে। বাকি জীবন তাকে হুইল চেয়ারেই কাটাতে হবে। মুন্নির মা রিজিয়া বেগম সারাক্ষণ তার সঙ্গে থাকেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি ভিটেবাড়ির সামান্য জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। নিজের সঞ্চয় এবং এলাকার লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের সাহায্য নিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা মেয়ের চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন। বাড়ি বিক্রি করে এখন তারা মুন্নির ছোট চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। "

 


মন্তব্য