kalerkantho


রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের কালোব্যাজ ধারণ

থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর    

২ মার্চ, ২০১৭ ১৮:৩৫



ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের কালোব্যাজ ধারণ

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজ বৃহস্পতিবার কালো ব্যাজ ধারণ করেন। খবর পেয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা হাসপাতাল পরিদর্শন করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাক রোগীর স্বজনদের হাতে লাঞ্ছিত হন। আহত আব্দুর রাজ্জাককে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই রোগী সুস্থ হয়ে গতকাল দুপুরে বাড়ি ফিরে গেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শহরের রথখোলা এলাকার তানভীর নামের পাঁচ বছরের শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক ওয়ার্ডে ওই রোগীকে দেখতে যান। তারা জানান, ওই রোগীর কয়েকজন স্বজন রোগীকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন। চিকিৎসক রাজ্জাক তাদের জায়গা করে দিতে অনুরোধ জানালে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই রোগীর কয়েকজন স্বজন চিকিৎসক রাজ্জাককে দুই দফা কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে  আহত করে। পরে কর্মচারীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন অরুণ কান্তি বিশ্বাস জানান, আহত ওই চিকিৎসককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ওই চিকিৎসক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আজ সকাল থেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, "ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া আজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। "

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই কাজী মাসুদ রানা জানান, ওই রাতেই  ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই শিশুর মামা শহরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম (২৯) ও তার সহযোগী সোহাগ খানকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

 


মন্তব্য