kalerkantho


১০ কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক উদ্ধার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৭ ১০:৪৯



১০ কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক উদ্ধার

কোস্টগার্ডের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের একটি তক্ষক পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধারের দাবি করেছে। কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোন এই দাবি করে বলেছে, এটি (তক্ষকটি) ছিল গেকোনিডি গোত্রের একটি গিরগিটি প্রজাতির প্রাণী।

তবে ওই সময় তারা কোনো পাচারকারীকে আটক করতে পারেননি। ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোস্ট গার্ড এ দাবি করে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লে. কমান্ডার ফরিদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে খুলনা জেলার দাকোপ থানার কালাবগি ঘাটসংলগ্ন এলাকায় টহলের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাবগি ঘাট থেকে বিরল প্রজাতির একটি তক্ষক প্রাণী তারা উদ্ধার করেছে।

এ সময় কাস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ড আরো জানান তক্ষক উদ্ধার করে তারা বিকেলের দিকে সুন্দরবনের হুডা ফরেস্ট অফিসে তা হস্থান্তর করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যার আগে প্রাণীটিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দিয়েছে। উদ্ধার করা প্রাণীটির (তক্ষক) বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বলেও কোস্ট গার্ড গণমাধ্যমে পাঠানো ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে।

এদিকে তক্ষক সম্পর্কে ইউকিপিডিয়া বলে তক্ষক (ইংরেজি : Tokay gecko, বৈজ্ঞানিক নাম : Gekko gecko) গেকোনিডি গোত্রের একটি গিরগিটি প্রজাতি। পিঠের দিক ধূসর, নীলচে-ধূসর বা নীলচে বেগুনি-ধূসর। সারা শরীরে থাকে লাল ও সাদাটে ধূসর ফোঁটা।

পিঠের সাদাটে ফোঁটাগুলি পাশাপাশি ৭-৮টি সরু সারিতে বিন্যস্ত। কমবয়সী তক্ষকের লেজে পরপর গাঢ় নীল ও প্রায় সাদা রংয়ের বলয় রয়েছে। মাথা অপেক্ষাকৃত বড়, নাকের ডগা চোখা ও ভোঁতা। চোখ বড় বড়, মণি ফালি গড়নের। লেজ সামান্য নোয়ানো। দৈর্ঘ্য নাকের ডগা থেকে পা পর্যন্ত ১৭ সে. মি. এবং লেজও প্রায় ততটা। তক্ষকের ডাক চড়া, স্পষ্ট ও অনেক দূর থেকে শোনা যায়। ডাকের জন্যই এই নাম। 'কক্কক' আওয়াজ দিয়ে ডাক শুরু হয়, অতঃপর তক-ক্কা ডাকে কয়েক বার ও স্পষ্টস্বরে।

এরা কীটপতঙ্গ, ঘরের টিকটিকি ছোট পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে থাকে। ছাদের পাশের ভাঙা ফাঁক-ফোঁকড় বা গর্তে অথবা গাছে বাস করে। ব্যাপক নিধনই বিপন্ন হওয়ার কারণ। অনেকে ভুলক্রমে তক্ষককে বিষাক্ত সরীসৃপ হিসেবে চিহ্নিত করে। দেশি চিকিৎসায় এদের তেল ব্যবহৃত হয়। ভারত ও বাংলাদেশসহ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস, কাম্পুচিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৬০০ প্রজাতির তক্ষকের বাস।

 


মন্তব্য