kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কথিত 'মামা হুজুরের' নির্দেশে হত্যাকাণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫১



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কথিত 'মামা হুজুরের' নির্দেশে হত্যাকাণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে খুন হওয়া কবিরাজ ফরিদ মিয়া হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘাতক জহির মিয়া জানিয়েছেন, কথিত মামা হুজুরের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

জহিরের দেয়া জবানবন্দি মতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি পুলিশ এতদিন চেপে রাখে।     

কসবা থানা পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার শাহপুর গ্রামের জহির মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট মাস আগে পরিচয় হয় ফরিদ মিয়ার। স্ত্রীর বনিবনা না হওয়া ও তাকে ’বোবা’ ধরার চিকিৎসা করাতে জহির মিয়া সেখানে আসেন। ফরিদ মিয়া জানিয়ে দেয়, তার সব কথা শুনলে জহিরের সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নিয়মিত যাতায়তকারী জহির দেখতে পায় ওই কবিরাজ এখানে কৌশলে অনেককে ধর্ষণ করে। এছাড়া প্রতারণা করে অনেকের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এদিকে যাওয়া-আসার মধ্যে ফরিদ ও জহিরের মধ্যে সমকামিতার সম্পর্ক গড়ে উঠে। জহির তখন এ নিয়ে শাহপুর গ্রামের অবস্থারনরত মামা হুজুর নামে এক ব্যক্তির শরনাপন্ন হন।

ওই মামা হুজুর তখন জহির মিয়াকে জানান, ফরিদ মিয়ার মতো প্রতারককে মেরে ফেলা হলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে। এরই পর থেকেই ফরিদ মিয়াকে হত্যার ছক করা হয়। মামা হুজুর জানান এ কাজে তিনিও জহিরকে সহায়তা করবেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মামা হুজুরসহ তিনি কুটি এলাকা থেকে একটি ছুরি, চানাচুর, বিস্কুট, সরিষার তেল ইত্যাদি কিনে জগন্নাথপুর গ্রামে ফরিদ মিয়ার বাড়িতে আসেন। ফরিদ মিয়া বাড়িতে না থাকায় তাকে মোবাইল ফোনে কল করে সমকামিতা শেষে ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

কসবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন বুধবার কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনার পর থেকেই মামা হুজুর পলাতক রয়েছেন। তিনি কে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে তাকে আশ্রয় দেয়া কাইয়ুম মিয়াকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কসবা উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ফরিদ মিয়ার (৪৭) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফরিদ মিয়া এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। জহির মিয়া তার পূর্ব পরিচিত।  


মন্তব্য