kalerkantho


গৌরনদীতে জমে উঠেছে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই

মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী (বরিশাল)    

১ মার্চ, ২০১৭ ১৫:৫৭



গৌরনদীতে জমে উঠেছে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, জনসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জমে উঠেছে জেলার গৌরনদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন। নির্বাচনী প্রতীক নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইয়ে এখন নির্বাচনী জ্বরে কাঁপছে গোটা উপজেলা। আগামী ৬ মার্চ এ উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বুধবার সকালে উপজেলার বাটাজোর, দুপুরে মাহিলাড়া, বিকেলে সরিকল ইউনিয়নে এবং গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গৌরনদী বন্দর ও বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক জনসংযোগ করেছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মনজুর হোসেন মিলন। এ সময় তাঁর সঙ্গে  দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গৌরনদী বন্দরে পৌর বিএনপির সভাপতি এস.এস মনির-উজ-জামান মনিরের সভাপতিত্বে পৌর বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে, আজ বুধবার সকালে সরিকল ও বিকেলে বাটাজোর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরীর সমর্থনে মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর মোল্লার নেতৃত্বে ব্যাপক জনসংযোগ করেছেন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। আজ বুধবার বিকেলে চাঁদশীতে নৌকার সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী উঠান বৈঠক। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও গৌরনদী পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান। বক্তারা আগামী ৬ মার্চ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর হোসেন মিলন অভিযোগ করেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রচারণা চালাতে গিয়ে তাঁর একাধিক কর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার স্বীকার হয়েছেন। এরইমধ্যে মঙ্গলবার বরিশালে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। নির্বাচনে নির্বিঘ্নে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁর আশ্বাসের ভিত্তিতে ওইদিন বিকেল থেকে তিনি প্রকাশ্যে জনসংযোগে নেমেছেন। মিলন বলেন, "আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত আমি ও আমার সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারলে ধানের শীষে শতভাগ বিজয় অর্জন করা সম্ভব হবে। "

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, "আগামী ৬ মার্চ ভোটাররা যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। " তিনি বলেন, "বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল, তারা আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণের বিপুল ভোটের মাধ্যমেই নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত হবে। "

গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহে আলম খানের মৃত্যুতে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এ উপজেলায় মোট এক লাখ ৪১ হাজার ২৯৬ জন ভোটার রয়েছে।

 


মন্তব্য